Dhaka ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লার মুরাদনগরে পূর্ব শত্রুতার জেরে নারীকে পিটিয়ে হত্যা

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৪:২০:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৬ বার দেখা হয়েছে

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় দীর্ঘদিনের পূর্ব শত্রুতার জেরে রাশিদা বেগম (৫০) নামের এক নারীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান এজাহারনামীয় আসামি রহিম সরকারকে (৬০) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১১। গত শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পদুয়ার বাজার এলাকা থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়।

রোববার (১১ অক্টোবর) এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-১১-এর সিপিসি-২, কুমিল্লার ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. ইমরুল হাসান। গ্রেপ্তারকৃত রহিম সরকার মুরাদনগর উপজেলার মহেশপুর গ্রামের মৃত আব্দুল বাতেন সরকারের ছেলে।

এসআরবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৫ জুন সকালে মুরাদনগরের মহেশপুর গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে রাশিদা বেগমকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার করুণ মৃত্যু হয়।

প্রাথমিক তদন্ত ও তথ্য সূত্রে জানা যায়, মহেশপুর গ্রামের খোরশেদ আলম ও রহিম সরকারকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরেই এর আগে রহিম সরকার পক্ষের সদস্য মাওলা সরকারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই হত্যা মামলার আসামি হিসেবে নিহত রাশিদা বেগমের স্বামী দেলোয়ার হোসেন এবং ভুক্তভোগী রাশিদা বেগম নিজে ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন। মূলত সেই পুরোনো বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জোরালো ধারণা করছেন।

এসআরবির ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. ইমরুল হাসান বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে জানান যে, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গত ২৫ জুন সকালে রাশিদা বেগম গোপনে নিজ বাড়িতে আসেন। পরে গৃহপালিত পশু নিয়ে একটি পিকআপভ্যানে করে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে তার গাড়ির গতি রোধ করা হয়। এরপর প্রধান আসামি রহিম সরকারের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল তাকে বলপূর্বক পিকআপভ্যান থেকে নিচে নামিয়ে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় মাকে রক্ষা করতে তার দুই মেয়ে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদেরও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও আহত করে।

পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগী নারী ও তার মেয়েদের উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাশিদা বেগমের মৃত্যু ঘটে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরপরই নিহতের কন্যা বাদী হয়ে বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর থেকেই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে এসআরবি গোয়েন্দা নজরদারি ও তৎপরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সুনির্দিষ্ট সহায়তা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি রহিম সরকারকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। গত রোববার দুপুরে আইনি প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর তাকে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লার মুরাদনগরে পূর্ব শত্রুতার জেরে নারীকে পিটিয়ে হত্যা

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৪:২০:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় দীর্ঘদিনের পূর্ব শত্রুতার জেরে রাশিদা বেগম (৫০) নামের এক নারীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান এজাহারনামীয় আসামি রহিম সরকারকে (৬০) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১১। গত শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পদুয়ার বাজার এলাকা থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়।

রোববার (১১ অক্টোবর) এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-১১-এর সিপিসি-২, কুমিল্লার ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. ইমরুল হাসান। গ্রেপ্তারকৃত রহিম সরকার মুরাদনগর উপজেলার মহেশপুর গ্রামের মৃত আব্দুল বাতেন সরকারের ছেলে।

এসআরবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৫ জুন সকালে মুরাদনগরের মহেশপুর গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে রাশিদা বেগমকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার করুণ মৃত্যু হয়।

প্রাথমিক তদন্ত ও তথ্য সূত্রে জানা যায়, মহেশপুর গ্রামের খোরশেদ আলম ও রহিম সরকারকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরেই এর আগে রহিম সরকার পক্ষের সদস্য মাওলা সরকারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই হত্যা মামলার আসামি হিসেবে নিহত রাশিদা বেগমের স্বামী দেলোয়ার হোসেন এবং ভুক্তভোগী রাশিদা বেগম নিজে ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন। মূলত সেই পুরোনো বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জোরালো ধারণা করছেন।

এসআরবির ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. ইমরুল হাসান বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে জানান যে, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গত ২৫ জুন সকালে রাশিদা বেগম গোপনে নিজ বাড়িতে আসেন। পরে গৃহপালিত পশু নিয়ে একটি পিকআপভ্যানে করে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে তার গাড়ির গতি রোধ করা হয়। এরপর প্রধান আসামি রহিম সরকারের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল তাকে বলপূর্বক পিকআপভ্যান থেকে নিচে নামিয়ে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় মাকে রক্ষা করতে তার দুই মেয়ে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদেরও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও আহত করে।

পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগী নারী ও তার মেয়েদের উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাশিদা বেগমের মৃত্যু ঘটে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরপরই নিহতের কন্যা বাদী হয়ে বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর থেকেই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে এসআরবি গোয়েন্দা নজরদারি ও তৎপরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সুনির্দিষ্ট সহায়তা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি রহিম সরকারকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। গত রোববার দুপুরে আইনি প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর তাকে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।