সুদানের উত্তর দারফুরে জামজাম শরণার্থী শিবিরে এপ্রিলে আঘাত হানার ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যুদ্ধাপরাধ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই হামলায় আরএসএফের নির্মম কর্মকাণ্ডের বিশদ বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিলের ১১ থেকে ১৩ তারিখের মধ্যে সংঘটিত হামলায় আরএসএফের যোদ্ধারা বেসামরিক মানুষদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে, বসতবাড়ি পুড়িয়েছে, বাজারে র্যান্ডম আগুন জ্বালিয়েছে এবং এমন কাজ করেছে যা ধর্ষণ ও লুটপাটের সমতুল্য হতে পারে। দুই দিনের মধ্যেই প্রায় চার লাখ মানুষ শিবির ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে।
আমনেস্টির মহাসচিব এ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, “জামজাম শিবিরে ক্ষুধার্ত, দুর্বল নাগরিকদের ওপর আরএসএফের ভয়াবহ ও পরিকল্পিত হামলা আবারও দেখিয়ে দিয়েছে যে তারা মানুষের জীবনকে কতটা হালকাভাবে নেয়। বেসামরিকরা নির্বিচারে আক্রান্ত হয়েছে, হত্যা হয়েছে, বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র লুট হয়েছে, এবং ন্যায়বিচারের কোনো পথ বাকি রাখা হয়নি।”
২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষাৎকার, ভিডিও ও স্যাটেলাইট চিত্রের মাধ্যমে প্রতিবেদনে আরএসএফের যুদ্ধাপরাধের নানা ঘটনাকে তুলে ধরা হয়েছে। এক সাক্ষী জানিয়েছেন, “আরএসএফ যোদ্ধারা শুধু চিৎকার করছে এবং নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে, তাই এত মানুষ নিহত হয়েছে।” আরেক সাক্ষী বলেন, “শেলিং কোথা থেকে আসছে তা বোঝা যাচ্ছিল না। এটা সবার উপরে ছড়িয়ে ছিল।”
সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি সংযুক্ত আরব আমিরাতকেও সমালোচনা করেছে, যাদের উপর আরএসএফকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। যদিও সংযুক্ত আরব আমিরাত এটি অস্বীকার করেছে।
সুদানের সামরিক বাহিনী (SAF) এবং আরএসএফের মধ্যে সংঘাত এপ্রিল ২০২৩ থেকে চলছে। এই সংঘাতে প্রায় ১২০০万人 নিঃস্ব হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এখনও কার্যকর হয়নি। গত মাসে “কোয়াড” দেশগুলোর মধ্যস্থতায় আরএসএফ একপাক্ষিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছিল, তবে চলমান সংঘাত দেখায় যে দু’পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ থামার ইচ্ছা সীমিত।
জামজাম শিবিরে আরএসএফের হামলার চিত্র যেন হৃদয় ভেঙে দেয়—নিরপরাধ মানুষদের ওপর নির্বিচারে আগুন, গুলি এবং লুটপাট। মানবিক চোখে এই ঘটনা এক গভীর আঘাতের প্রতিফলন, যেখানে ক্ষুধা, ভয় এবং আশা একসাথে মিলেমিশে এক অজানা ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
















