ঘরোয়া লিগগুলোর প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও ২০২৬ বিশ্বকাপে কর্নার কিক দেওয়ার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ‘ভিএআর’ (VAR) ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
ফুটবলের আইন প্রণেতা সংস্থা ‘আইফ্যাব’-এর গত অক্টোবরের সভায় লাল কার্ডের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডটি ভুলভাবে দেখানো হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ে ভিএআর ব্যবহারের সম্মতি মিলেছে। তবে কর্নার কিক পর্যালোচনার প্রস্তাবটি তখন নাকচ করে দেওয়া হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য আগামী বিশ্বকাপে ফিফাকে কার্যত একটি পরীক্ষামূলক পদ্ধতি বা ‘ট্রায়াল’ হিসেবে এটি চালু করতে হবে।
ফিফার রেফারিদের প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা ভিএআর প্রোটোকলের এই পরিবর্তনের পক্ষে জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন। কলিনা মনে করেন, ভিএআর-এর মাধ্যমে যদি দ্রুত কোনো ভুল ধরা পড়ে, তবে তা মাঠে রেফারিকে জানানো উচিত। তিনি উদাহরণ হিসেবে ২০১৬ ইউরো ফাইনালের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে অতিরিক্ত সময়ে ভুলবশত পর্তুগালকে একটি ফ্রি-কিক দেওয়া হয়েছিল, যা থেকে প্রায় গোল হয়ে যাচ্ছিল।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগসহ বিশ্বের প্রধান লিগগুলো এই পরিবর্তনের বিপক্ষে। তাদের মূল ভয় খেলার গতি কমে যাওয়া নিয়ে। প্রিমিয়ার লিগে প্রতি ম্যাচে গড়ে ১০টি কর্নার হয়। প্রতিটি কর্নার চেক করতে গেলে খেলায় বড় ধরনের বিরতি তৈরি হতে পারে। এফএ-এর প্রধান নির্বাহী মার্ক বুলিংহামও এর বিরোধিতা করেছেন।
এছাড়া প্রযুক্তিগত ও জনবল সংকটের বিষয়টিও সামনে এসেছে। বিশ্বকাপে ফিফার ভিএআর রুমে ৫ জন অফিশিয়াল থাকেন এবং অফসাইড বা বলের স্পর্শ ধরার জন্য উন্নত প্রযুক্তির বল ও অসংখ্য ক্যামেরা থাকে। অন্যদিকে, ঘরোয়া লিগগুলোতে সাধারণত ভিএআর রুমে মাত্র ২ জন থাকেন এবং প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতাও থাকে। ফলে লিগগুলোর পক্ষে দ্রুত ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
ফুটবলের আইন অনুযায়ী, একবার খেলা আবার চালু হয়ে গেলে (রিস্টার্ট) রেফারি আর পূর্বের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন না। তাই কর্নার কিক নেওয়ার আগেই ভিএআর চেক সম্পন্ন করতে হবে। ফিফা বিশ্বাস করে, তাদের হাতে থাকা উন্নত প্রযুক্তির (যেমন: কানেক্টেড বল টেকনোলজি) মাধ্যমে তারা দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে।
আগামী জানুয়ারি মাসে আইফ্যাবের পরবর্তী সভায় বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা হবে। তবে ফিফা অতীতেও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় তাদের নিজস্ব ট্রায়াল চালিয়েছে (যেমন: সেমি-অটোমেটেড অফসাইড), তাই ২০২৬ বিশ্বকাপে কর্নার কিকের ক্ষেত্রে ভিএআর-এর ব্যবহার এক প্রকার নিশ্চিতই বলা চলে।
















