ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে; ভোট উৎসবমুখর করতে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসন শতভাগ প্রস্তুত বলে জানালেন নির্বাচন কমিশনার।
ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, ৭ ডিসেম্বরের পর যেকোনো দিন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা হবে। রমজানের আগেই এক দিনে ভোট আয়োজনের সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
আগামী ৭ ডিসেম্বরের পর যেকোনো দিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি জানান, আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই তফসিল ঘোষণা হবে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে—রমজানের আগে—একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
সরকারি বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তফসিল ঘোষণার নির্দিষ্ট তারিখ কমিশনের পরবর্তী বৈঠকে চূড়ান্ত হবে। তার দাবি, দেশজুড়ে ভোটারদের মধ্যে অংশগ্রহণের আগ্রহ ব্যাপক, আর আন্তর্জাতিক মহলও এই নির্বাচনকে গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। নির্বাচনী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আচরণবিধি ভাঙলে ছয় মাসের কারাদণ্ড, দেড় লাখ টাকা জরিমানা বা প্রার্থিতা বাতিলের বিধানও কার্যকর করা হবে।
সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের বিষয়ে আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ভোটারকে দুটি ব্যালটে ভোট দিতে হবে বলে বুথ সংখ্যা বাড়ানো ও সময় বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এরই মধ্যে একসঙ্গে ভোটগ্রহণের ‘মক ভোটিং’ সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মাঠ প্রশাসন, প্রিজাইডিং অফিসার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পর্যবেক্ষক এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি টিমকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এবার প্রথমবারের মতো বডিওর্ন ক্যামেরাও ব্যবহৃত হবে, যাতে প্রতিটি ঘটনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।
নির্বাচনকে ‘উৎসবমুখর’ করতে সরকারের সহযোগিতা প্রশংসনীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অতীতে বিভিন্ন সংস্থা বিতর্কে থাকলেও এবার সবাই নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা পুনরুদ্ধারে আন্তরিক। সরকারের সব বিভাগ থেকেই ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”
ভোটার উপস্থিতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচারণা, ভোটারদের আস্থা এবং নির্বাচন-প্রীতি এবারের অংশগ্রহণকে আরও বড় করে তুলবে।
















