যুক্তরাজ্যে প্রতারক চক্রের সদস্যরা টেক্সট বার্তার মাধ্যমে প্রতারণা করে (যা ‘স্মিশিং’ নামে পরিচিত) প্রতি মাসে লাখো টাকা সমপরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এবং সেই অর্থ দিয়ে কিনছে দামি জুতা-ব্যাগসহ বিলাসী পণ্য। এসব প্রতারকের কাছ থেকে জব্দ করা হাজার হাজার বিলাসবহুল সামগ্রী এখন পুলিশের প্রমাণাগারে সাজানো রয়েছে।
ডিটেকটিভ চিফ ইন্সপেক্টর পল কার্টিস জানান, প্রতারকদের বাড়িতে তল্লাশি ও অভিযানে প্রায় ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার ধরনের পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এসব অপরাধী অর্থ জমিয়ে রাখে না, বরং হাতের কাছেই খরচ করে ফেলে। গুচির রঙিন হাই হিল থেকে শুরু করে দামি চামড়ার ব্যাগ—সবই রয়েছে ওই প্রমাণাগারে।
কার্টিস যে প্রতারণার কথা বলছেন, তা মূলত ‘স্মিশিং’। এখানে এসএমএস বা টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে ব্যাংক বা পরিচিত প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে মানুষকে ব্যক্তিগত তথ্য দিতে প্রলুব্ধ করা হয়। পাসওয়ার্ড, পিন নম্বরসহ এসব তথ্য সংগ্রহ করে অর্থ হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা।
কার্ড ও পেমেন্ট ক্রাইম দমনে লন্ডন ও মেট্রোপলিটন পুলিশের যৌথ ইউনিটে কাজ করেন কার্টিস। তার ভাষায়, সাম্প্রতিক এক মামলায় একজন আসামি পাঁচ দিনের মধ্যে ১৫ হাজার প্রতারণামূলক বার্তা পাঠিয়েছিল, যার মাধ্যমে মাসে প্রায় এক লাখ পাউন্ড আয় করত। ওই শিক্ষার্থী রুইচেন জিয়ংকে জুন মাসে ৫৮ সপ্তাহের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
যুক্তরাজ্যের টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম জানায়, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অর্ধেক মোবাইল ব্যবহারকারী সন্দেহজনক বার্তা পেয়েছেন।
বার্কশায়ারের ৬৪ বছরের জিদেওন রাবিনোভিটজও এমন প্রতারণার শিকার। তিনি জানান, ব্যাংকের পরিচয়ে একটি টেক্সট বার্তা পেয়ে প্রতারিত হয়ে ১৪০০ পাউন্ড হারিয়েছেন। তিনি বলেন, এই অভিজ্ঞতা তাকে অসম্ভব নাড়া দিয়েছে এবং আত্মবিশ্বাস নষ্ট করেছে।
স্মিশিংয়ে প্রতারকরা সাধারণত বড় কোম্পানির নামে বার্তা পাঠিয়ে একটি লিঙ্ক ক্লিক করাতে চায়। লিঙ্কে ঢুকলে ভুয়া ওয়েবসাইটে নিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য আদায় করার পাশাপাশি অর্থ স্থানান্তরে চাপ দেয়া হয়।
এ ধরনের প্রতারণা পরিচালনায় দুটি যন্ত্র বেশি ব্যবহৃত হয়—‘সিম ফার্ম’ ও ‘এসএমএস ব্লাস্টার’। সিম ফার্মে বহু সিমকার্ড রেখে হাজার হাজার টেক্সট পাঠানো সম্ভব হয় আর এসএমএস ব্লাস্টার আশেপাশের মোবাইলকে ফাঁদে ফেলে মুহূর্তে বার্তা পাঠায়।
যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, স্মিশিং ভুক্তভোগীদের জন্য ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলছে। তারা সিম ফার্ম নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে, যা আগামী বছর কার্যকর হতে পারে।
কাইরান মার্টিন, ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের সাবেক প্রধান, বলেন স্মিশিং প্রতারণা রোধ করা কঠিন, কারণ অধিকাংশ বার্তা বিদেশ থেকে আসে। তার মতে, প্রতারণা ঠেকাতে পুলিশকে দিয়ে সব সমস্যার সমাধান হবে না; বরং মানুষকে সচেতন হতে হবে যে প্রকৃত প্রতিষ্ঠানগুলো কখনো টেক্সটে অর্থ দাবি করে না।
পুলিশের পরামর্শ—অপরিচিত নম্বর থেকে আসা কোনো বার্তার লিঙ্কে ক্লিক করবেন না। প্রতারণার শিকার হলে অ্যাকশন ফ্রডে রিপোর্ট করুন, ব্যাংককে জানান এবং সন্দেহজনক মেসেজ ৭৭২৬ নম্বরে ফরোয়ার্ড করুন।















