ইসরায়েলের গাজা যুদ্ধের নৃশংসতা ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির ধারাবাহিক লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছে। শনিবার জাতিসংঘ ঘোষিত ফিলিস্তিন সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এসব বিক্ষোভে অংশ নেয় বিপুল জনগণ। একইদিন গাজায় মৃত্যুর সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়ে যায়।
দক্ষিণ গাজার বানি সুহেইলায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় ৮ ও ১০ বছর বয়সী দুই শিশুর মৃত্যুসহ অসংখ্য হতাহতের খবর বিক্ষোভের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তোলে।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ রাস্তায় নামে। তারা “গাজা, গাজা, প্যারিস তোমার সঙ্গে আছে” ও “প্যারিস থেকে গাজা, প্রতিরোধ” স্লোগান তোলে। বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলি বর্বরতার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই হত্যাযজ্ঞে এখনও কোনো ন্যায়বিচার নেই।
ফ্রান্স প্যালেস্টাইন সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যান তুয়াইয়োঁ বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও বাস্তবে তা প্রতিনিয়ত লঙ্ঘিত হচ্ছে; ইসরায়েল মানবিক সহায়তা আটকে দিচ্ছে এবং অব্যাহতভাবে ধ্বংস চালাচ্ছে। তাদের দাবি, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও নিপীড়নের অবসান।
লন্ডন, জেনেভা, রোম, লিসবনসহ ইউরোপের আরও বহু শহরে একই ধরনের মিছিল হয়েছে। লন্ডনে আয়োজকদের দাবি, প্রায় এক লাখ মানুষ অংশ নিয়েছে এবং ইসরায়েলের ‘অপরাধের বিচার’—এই ছিল প্রধান দাবি।
রোমের বিক্ষোভে যোগ দেন ফিলিস্তিনের মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজ এবং জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। আলবানিজ সামাজিকমাধ্যমে বলেন, ইসরায়েল শুধু গাজায় নয়, পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েল গাজা উপত্যকার অর্ধেকের বেশি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং একাধিক হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধবিরতির পর অন্তত ৫০০ লঙ্ঘনের ঘটনায় ৩৪৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ৮৮৯ জন আহত হয়েছে।
গাজায় নিহত দুই শিশু—ফাদি এবং জুমা তামর আবু আসি—কাঠ জোগাড় করতে বের হয়েছিল পরিবারের জন্য। তাদের চাচা জানান, তারা সম্পূর্ণ নিরপরাধ, আর বাবা দুই পায়ে প্লাটিনাম বসানো প্রতিবন্ধী হওয়ায় শিশু দু’জনই সংসারের সহযোগী ছিল।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেন, এত মানুষের মৃত্যু, বারবার বাস্তুচ্যুতি এবং মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
গাজা থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক জানান, আন্তর্জাতিক সংহতির আহ্বান সত্ত্বেও স্থানীয় মানুষের অবস্থা সংকটপূর্ণ। অনেকে এখনও তাঁবুতে বাস করছে, খাবার, ওষুধ, শিক্ষা—সব ক্ষেত্রেই তারা চরম সংকটে। যুদ্ধবিরতি থাকলেও ফিলিস্তিনিদের মৃত্যু থামছে না।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বৃহস্পতিবার সতর্ক করে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি বজায় রেখেও ইসরায়েল গাজায় নতুন হামলা চালাচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সাহায্য পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে—যা চলমান গণহত্যার ইঙ্গিত বহন করে।
















