যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আবারও ফিরেছে অন্ধকার স্মৃতির ঢেউ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মৃত অর্থপতি ও দোষী সাব্যস্ত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের পুরোনো সম্পর্ক নতুন করে প্রশ্নের মুখে, যখন মার্কিন কংগ্রেসে এপস্টিনের সম্পত্তি থেকে উদ্ধার হওয়া বিশ হাজারেরও বেশি নথি প্রকাশ করেছে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। এসব নথির কিছু অংশে ট্রাম্পের নামও উঠে এসেছে।
ডেমোক্র্যাটদের প্রকাশিত ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, এপস্টিন তার সহযোগী ও প্রাক্তন প্রেমিকা গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলকে লিখছেন যে ট্রাম্প নাকি তার বাড়িতে এক ভুক্তভোগীর সঙ্গে বহুক্ষণ ছিলেন। সেই ভুক্তভোগীর নাম পরে জানা যায় ভির্জিনিয়া জিউফ্রে, যিনি সম্প্রতি আত্মহত্যা করেন। হোয়াইট হাউস অবশ্য বলেছে, জিউফ্রে নিজেই বহুবার বলেছেন ট্রাম্প কোনো অন্যায় করেননি এবং তার প্রতি সদয় ছিলেন।
অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা পাল্টা হিসেবে আরও বিশ হাজার নথি প্রকাশ করেছে, দাবি করেছে ডেমোক্র্যাটরা নাকি নির্দিষ্ট নথি বেছে নিয়ে বিভ্রান্তিকর গল্প তৈরি করেছে। রিপাবলিকান নথিতে ট্রাম্পের নাম থাকলেও বেশিরভাগই তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার সম্পর্কিত আলোচনা।
এপস্টিনের সঙ্গে যুক্ত মার্কিন সাংবাদিক মাইকেল ওল্ফের ইমেইলও প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে দেখা যায়, তারা ট্রাম্পকে নিয়ে আলাপ করছিলেন এবং এমনকি রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও কথাবার্তা হয়েছিল। ওল্ফ পরে বলেন, তিনি এপস্টিনের কাছে ঘেঁষেছিলেন মূলত ট্রাম্পকে বোঝার জন্য, এবং তার মতে, ট্রাম্প এমন এক অন্ধকার শক্তির বন্ধু যে সমাজের দুর্বলদের ক্ষতবিক্ষত করে।
ট্রাম্প সব অভিযোগ উড়িয়ে বলেছেন, এসব ইমেইল নিছক প্রতারণা, ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক নাটক ছাড়া আর কিছু নয়। তার মুখপাত্রও বলেছে, নথিগুলোতে এমন কিছু নেই যা ট্রাম্পকে দোষী প্রমাণ করে।
ডেমোক্র্যাট রো খান্না বলেছেন, এই পুরো এপস্টিন চক্রই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকে কলুষিত করেছে। ক্ষমতাবানদের অনেকেই জানতেন কী ঘটছে, তবুও চুপ ছিলেন।
কংগ্রেসে পরের সপ্তাহে ভোট হবে এপস্টিনের সব অবশিষ্ট নথি প্রকাশ করা হবে কি না। প্রতিনিধি পরিষদে বিল পাস হলেও সিনেট ও প্রেসিডেন্টের অনুমোদন লাগবে। প্রেসিডেন্ট চাইলে ভেটোও দিতে পারেন, আবার ভেটোর কারণও তাকে জানাতে হবে।
রিপাবলিকান সদস্য লরেন বোবার্ট বলেছেন, তিনি নথি প্রকাশের পক্ষে, কারণ তিনি নিজেও যৌন নির্যাতনের বেদনা বয়ে বেড়ান। “যাদের ওপর পৃথিবী ঝাঁপিয়ে পড়ে, তাদের সংগ্রাম আমার সংগ্রাম,” তিনি লিখেছেন।
মার্কিন রাজনীতি যখন অস্থিরতা, নাটক ও ক্ষমতার লড়াইয়ে ভরা, তখন এপস্টিনের ছায়া যেন আবার ফিরে এসে মনে করিয়ে দিচ্ছে—অন্ধকার কখনো পুরোপুরি হারায় না, শুধু আড়াল বদলায়।
















