সুদানের দীর্ঘযুদ্ধের ধুলো ধোঁয়ার পাশে আবারও ভেসে উঠেছে দগ্ধ মানুষের আর্তনাদ। সরকারি বাহিনী সুদানি সশস্ত্র বাহিনী উত্তর কোরদোফান রাজ্যের দুটি এলাকা পুনর্দখল করেছে, যেখানে দ্রুতগামী আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ এল ফাশেরে আরও লাশ পোড়ানো ও মাটিচাপা দেওয়ার কাজ জোরদার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া দৃশ্যগুলোতে দেখা গেছে, সেনাসদস্যরা রাইফেল ও রকেট চালিত গ্রেনেড হাতে বিজয়ের উল্লাসে মেতে আছে। তারা কাজকিল ও উম দাম হাজ আহমেদ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, যা আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও ভয়াবহ লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কাজকিল, যা গত অক্টোবরের শেষ দিকে আরএসএফের হাতে পড়ে, এল ওবেইদের দক্ষিণে অবস্থিত। সেনাবাহিনীর জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই শহর দখলে রাখতে মরিয়া আরএসএফ। দুই পক্ষের সংঘাত এপ্রিল ২০২৩ থেকে যে অগ্নিগর্ভ যুদ্ধের জন্ম দিয়েছে, তা এখন তৃতীয় বছরে প্রবেশ করে নতুন করে পূর্ব দিকে ছড়িয়ে পড়ছে।
এই যুদ্ধে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর অস্ত্র সরবরাহ আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে। জাতিসংঘ ঘোষণা দিয়েছে, সুদান এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতির সংকটের মুখোমুখি। ১ কোটি ২০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরছাড়া, আর নিহত ও আহতের সংখ্যা দশ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশে দুর্ভিক্ষও নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘ।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন পক্ষের মধ্যস্থতায় করা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আরএসএফ মেনে নিলেও সেনাবাহিনী তাতে অরাজি। বর্তমান যুদ্ধরেখায় তারা কোনো বিরতি দিতে রাজি নয়। ফলে কেন্দ্রীয় সুদানে দুই বাহিনী আরও সৈন্য ও অস্ত্র জড়ো করছে, নতুন সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।
আরএসএফ উত্তর কোরদোফানে আক্রমণ শুরু করে একই সময়ে যখন তারা এল ফাশার পুরোপুরি দখল করে নেয়। ওই সময় তারা বারা শহর দখল করেছিল, যা দারফুর ও মধ্য সুদানের সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।
উপগ্রহে দেখা যাচ্ছে লুকোনো কবর
এল ফাশার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দুই সপ্তাহ পরও আরএসএফ বিপুলসংখ্যক লাশ পুড়িয়ে ও মাটিচাপা দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক গবেষণা ল্যাবের প্রকাশিত উপগ্রহ বিশ্লেষণে নতুন চারটি স্থানে লাশ নিঃশেষ করার আলামত দেখা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে আলফাশির বিশ্ববিদ্যালয়, আবু শউক শরণার্থী ক্যাম্পের পাশে একটি কাঠামো, আল হিকমা মসজিদের নিকটবর্তী এলাকা এবং সৌদি হাসপাতাল—যেখানে শত শত মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
গবেষকদের মতে, এখনো জানা যায়নি কত মানুষ নিহত হয়েছেন, তবে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা উদ্বেগজনক। শহরের বাজার, পানির উৎস বা রাস্তায় কোনো নাগরিকজীবনের চিহ্ন নেই—শুধু আরএসএফ টহল আর ছড়িয়ে থাকা মৃতদেহ।
প্রতিবেদনের প্রধান গবেষক ন্যাথানিয়েল রেমন্ড জানিয়েছেন, প্রায় এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ। “আমরা উপগ্রহে দগ্ধ দেহ দেখতে পাচ্ছি। প্রশ্ন হলো—মানুষগুলো কোথায় গেল এবং এই লাশগুলো কোথা থেকে আসছে?”
রেমন্ড আরও বলেন, প্রমাণের বড় অংশই এসেছে আরএসএফ যোদ্ধাদের নিজেদের প্রকাশ করা ভয়াবহ সব ভিডিও থেকে। তাদের ভাষায়—“তারা নিজের অপরাধ নিজেরাই সবচেয়ে বেশি প্রকাশ করছে।”
















