যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার সবচেয়ে বড় শহর শার্লটে চলছে হঠাৎ ঝড়ের মতো এক অভিবাসী ধরপাকড় অভিযান। রাস্তার মোড়ে মোড়ে মানুষ দেখছে অস্ত্রসজ্জিত ফেডারেল এজেন্ট, আর তাদের তাড়া খেয়ে দৌড়াচ্ছে বহু লাতিন বংশোদ্ভূত বাসিন্দা। যেন হঠাৎ করে শহরের আকাশে নেমে এসেছে ভয়ের ঘন ছায়া।
ফেডারেল প্রশাসন নিশ্চিত করেছে, অভিবাসন দমন অভিযানের অংশ হিসেবে আইসিই, সিবিপি ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কর্মকর্তারা শার্লটে গ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছেন। শনিবার এক বিবৃতিতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সহকারী সচিব ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন বলেছেন, অনথিভুক্ত অভিবাসীদের অপরাধ দমনে এই অভিযান চলছে।
তার ভাষায়, “আমেরিকানদের ভয় নয়, নিরাপত্তা নিয়ে বাঁচার অধিকার আছে। আমরা শার্লটে আরও কর্মকর্তাকে পাঠাচ্ছি, যাতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।”
তবে ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন শহরের মেয়র ভাই লাইলসসহ স্থানীয় নেতারা এই অভিযানকে “অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা” সৃষ্টিকারী দাবি করেছেন। তারা বলেন, শার্লট ও মেকলেনবার্গের মানুষের পাশে তারা আছেন—যারা কেবল স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চান।
শার্লট এমন একটি শহর, যেখানে নয় লাখের বেশি মানুষের মধ্যে দেড় লাখই বিদেশে জন্ম নেওয়া। অপরাধের হারও গত বছরের তুলনায় কমেছে। কিন্তু আগস্টে ইউক্রেনীয় শরণার্থী ইরিনা জরুতস্কাকে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসন আবারও ডেমোক্র্যাট শহরগুলোতে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলেছে।
অভিযান শুরুর আগে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। শুধু মেকলেনবার্গের শেরিফ গ্যারি ম্যাকফ্যাডেনকে জানানো হয়েছিল যে ফেডারেল এজেন্টরা শিগগিরই আসবেন।
শুক্রবার থেকেই শহরের রাস্তায় আইসিই ও বর্ডার পেট্রোলের গাড়ির সংখ্যা বাড়তে থাকে। মানুষ জানাচ্ছেন, হঠাৎ থামিয়ে জেরা করা হচ্ছে, কিছু ক্ষেত্রে করা হচ্ছে গ্রেপ্তার।
হন্ডুরাসে জন্ম নেওয়া মার্কিন নাগরিক উইলি আসেইতুনো জানান, কাজের পথে তিনি দেখেন, “অনেক লাতিনো দৌড়াচ্ছে, আর বর্ডার পেট্রোল তাদের পিছু নিচ্ছে।”
তাকে দুইবার থামায় তারা। দ্বিতীয়বার গাড়ির জানালা ভেঙে টেনে নামানো হয় মাটিতে ফেলে। তিনি বলেন, “বলেছিলাম আমি মার্কিন নাগরিক। তবুও তারা বিশ্বাস করছিল না।” নথি দেখানোর পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়, কিন্তু ভাঙা কাঁচ তার গাড়ির নিঃসঙ্গ সাক্ষী হয়ে পড়ে থাকে।
অভিযানকে কেন্দ্র করে বহু দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় সংগঠন CharlotteEast জানিয়েছে, তাদের এলাকায় “উল্লেখযোগ্য বর্ডার পেট্রোল কার্যক্রম” দেখা গেছে। অনেক দোকানদার আতঙ্কে শাটার নামিয়েছেন, ব্যবসা টিকে থাকবে কি না সে ভয়েই দিন কাটছে।
শহর পরিষদের সদস্য জেডি মাজুয়েরা আরিয়াস এক লাতিন বেকারির সামনে দাঁড়িয়ে দেখেছেন, পাশের আরেকটি বেকারি ভয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “আমরা সীমান্তে নই, এমনকি সীমান্ত অঙ্গরাজ্যেও নই। তবে এই অভিযান কেন? এটা শুধু অভিবাসী নয়, নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ উদাহরণ।”
শার্লটের আকাশে তাই আজও ঝুলে আছে এক অদৃশ্য আতঙ্ক—যেন পরিচয়ের ভুলেই কার যেন জীবন থমকে যেতে পারে।
















