ওমানের মধ্যাঞ্চলীয় উপকূলে একটি দুর্ঘটনাগ্রস্ত তেলবাহী জাহাজ থেকে ছড়িয়ে পড়া অপরিশোধিত তেলে সৈকত ও সামুদ্রিক পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। দেশটির পরিবেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এরই মধ্যে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উপকূল তেল দূষণের কবলে পড়েছে।
ওমানের উপকূলের কাছে জুন মাসে দুর্ঘটনার পর থেকে অপরিশোধিত তেল ছড়িয়ে পড়ছে তেলবাহী জাহাজ ক্যারোলিন বেজেঙ্গি থেকে। বুধবার ওমানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষ জানায়, রস মাদরাকাহ এলাকার সৈকতে তেল পৌঁছে গেছে।
পরিবেশ কর্তৃপক্ষ বলেছে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ওমানের উপকূল থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মাসিরাহ দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলেও তেল পৌঁছাতে পারে। সেখানে আরও ১০ থেকে ২০ কিলোমিটার উপকূল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিশেষজ্ঞ দলগুলো নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে তেল ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে ওমানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়া তেলের স্তর প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত হয়েছে। এর বড় অংশ হালানিয়াত দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে কেন্দ্রীভূত। ওই এলাকায় গত বছর সামুদ্রিক কচ্ছপসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর আবাসস্থল সংরক্ষণের জন্য একটি সামুদ্রিক সংরক্ষণ এলাকা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।
তবে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর হিসাবে দূষণের পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। পরিবেশ সংগঠন গ্রিনপিস গত সপ্তাহে সতর্ক করে বলেছে, দ্রুত তেল ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করা না গেলে নজিরবিহীন পরিবেশ বিপর্যয় ঘটতে পারে।
দুর্ঘটনাগ্রস্ত জাহাজটি ৮ জুন থেকে ওমানের আল হালানিয়াত দ্বীপপুঞ্জের কাছে অচল অবস্থায় রয়েছে। ওই সময় জাহাজের নাবিকেরা একটি সম্ভাব্য বিস্ফোরণের কথা জানিয়েছিলেন। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
জাহাজটিতে আনুমানিক আট লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তেল ছড়িয়ে পড়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টোফার ডেলিয়া এটিকে বড় ধরনের তেল দূষণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
জাহাজটি রাশিয়ার ছায়া নৌবহরের অংশ বলেও পশ্চিমা কয়েকটি সরকার দাবি করেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর রুশ তেল পরিবহনে ব্যবহৃত এসব জাহাজের ওপর বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
জাহাজটি বর্তমানে ক্যামেরুনের পতাকায় চলাচল করত। উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, চীনে নিবন্ধিত দুটি প্রতিষ্ঠান জাহাজটির মালিক ও পরিচালনাকারী হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, কানাডা ও ইউক্রেনও জাহাজটির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনার বড় সমস্যা হলো দূষণের দায় নির্ধারণ ও ক্ষতিপূরণ আদায়। তেল দূষণের ক্ষেত্রে সাধারণত দূষণকারী পক্ষকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যয় বহন করতে হয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এ ধরনের জাহাজের ক্ষেত্রে দায়ী পক্ষকে শনাক্ত করে সেই ব্যয় আদায় করা কঠিন হতে পারে।
















