সরকারি অচলাবস্থার অন্ধকার যেন ছায়া ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে। দেশজুড়ে বিমানবন্দরে চলছে চরম বিশৃঙ্খলা, ভ্রমণপিপাসু মানুষ আটকে আছে দীর্ঘ লাইনে, অপেক্ষায় অনিশ্চিত সময়ের। যদিও সিনেটের ইঙ্গিত বলছে—এই স্থবিরতা হয়তো শিগগিরই শেষ হতে পারে, তবুও আকাশে শৃঙ্খলার আলোর দেখা মিলছে না।
বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরে গড় বিলম্বের সময় এক ঘণ্টা ১৬ মিনিট, শিকাগো ও’হেয়ারে ৪৪ মিনিট, আর লাস ভেগাসের হ্যারি রিড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গড় বিলম্ব ৪৬ মিনিটে পৌঁছেছে। ফ্লাইট পর্যবেক্ষক প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইটঅওয়্যার জানিয়েছে, সেদিনই দেশব্যাপী ও আন্তর্জাতিকভাবে এক হাজার সাতশোরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং পাঁচ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত।
আমেরিকান এয়ারলাইনস জানিয়েছে, শুধুমাত্র সপ্তাহান্তেই প্রায় আড়াই লাখ যাত্রী এই বিপর্যয়ের শিকার হয়েছেন। এয়ারলাইন্স ফর আমেরিকার তথ্যমতে, ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সরকারি বন্ধের ফলে চার মিলিয়নের বেশি যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ভেঙে পড়েছে।
ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে গত সপ্তাহে ৪০টি প্রধান বিমানবন্দরে প্রতিদিনের ফ্লাইট সংখ্যা ৪ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেয়। এই সংখ্যা ১৪ নভেম্বরের মধ্যে ১০ শতাংশে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে, সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, “সব এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের এখনই কাজে ফিরতে হবে। যারা ফিরবেন না, তাদের বেতনে বড় কাটছাঁট করা হবে।” তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, যারা বেতন ছাড়া কাজ করে যাচ্ছেন তাদের ১০ হাজার ডলার পুরস্কৃত করবেন—তবে এই অর্থ কোথা থেকে আসবে, তা স্পষ্ট নয়।
এফএএর প্রধান ব্রায়ান বেডফোর্ড জানিয়েছেন, shutdown শুরুর পর থেকে দেশের ৩০টি বৃহৎ বিমানবন্দরে প্রতিদিন ২০ থেকে ৪০ শতাংশ কন্ট্রোলার অনুপস্থিত থাকছেন। সপ্তাহান্তে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়—শনিবারকে বলা হচ্ছে shutdown শুরু হওয়ার পর সবচেয়ে ভয়াবহ দিন।
রবিবার এফএএ ঘোষণা করে, ১২টি বড় বিমানবন্দরে সাধারণ বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ওয়াশিংটন রিগ্যান, শিকাগো ও’হেয়ার, হিউস্টন জর্জ বুশ, ডেনভার, সিয়াটল ও বোস্টন বিমানবন্দর।
ধনী ব্যক্তিদের সংগঠন প্যাট্রিয়টিক মিলিওনিয়ার্সের প্রেসিডেন্ট এরিকা পেইন এ পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যদি সত্যিই জায়গা দরকার হয়, তাহলে দেশের শীর্ষ ২৫টি ব্যক্তিগত বিমানবন্দর বন্ধ করে দিন। তাহলে সাধারণ মানুষ একটু স্বস্তি পাবে।”
পরিবহন বিভাগ জানালেও, যাত্রীরা কবে নাগাদ স্বাভাবিক সেবা পাবেন তা এখনো অনিশ্চিত। অফিসিয়াল প্রতিক্রিয়ায় তারা কেবল কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের লিংক দিয়েছে—যেখানে দায় চাপানো হয়েছে ডেমোক্র্যাটদের ওপর, কিন্তু কোনো সমাধানের ইঙ্গিত নেই।
ওয়াল স্ট্রিটেও এই বিশৃঙ্খলার প্রতিফলন পড়েছে। বাজার খোলার পর থেকেই আমেরিকান এয়ারলাইনসের শেয়ার ২ শতাংশ নিচে, ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ০.৩ শতাংশ কমেছে। আলাস্কা ও জেটব্লু-ও পতনের মুখে। কেবল সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনস সামান্য উর্ধ্বমুখী, ০.৪ শতাংশ বেড়ে আছে দুপুর আড়াইটায় (নিউইয়র্ক সময়)।
আকাশে কুয়াশার মতো ছড়িয়ে পড়েছে অনিশ্চয়তা, বিমানের জানালা দিয়ে যাত্রীরা তাকিয়ে দেখছেন নিঃশব্দ আকাশ—যেখানে ডানার শব্দের বদলে শোনা যাচ্ছে এক দীর্ঘশ্বাসের প্রতিধ্বনি।















