বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবলের দুই ঐতিহ্যবাহী শক্তি ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। দীর্ঘ একুশ বছর পর দুই দলের এই লড়াই ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে উঠেছে।
দুই দেশের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইতিহাস ছয় দশকেরও বেশি পুরোনো। অসংখ্য নাটকীয় ম্যাচ, বিতর্ক, স্মরণীয় গোল এবং আবেগঘন মুহূর্ত এই দ্বৈরথকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিণত করেছে।
বিশ্বকাপে দুই দলের অন্যতম আলোচিত ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় উনিশশো ছেষট্টি সালে। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড এক-শূন্য গোলে জয় পেলেও ম্যাচজুড়ে বিতর্ক, লাল কার্ড এবং উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। সেই ম্যাচকে আর্জেন্টিনায় দীর্ঘদিন ধরে ‘শতাব্দীর ডাকাতি’ বলেও আখ্যায়িত করা হয়।
এরপর উনিশশো ছিয়াশি সালের বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে আছে। সেদিন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনা প্রথমে হাত দিয়ে গোল করে বিতর্কের জন্ম দেন, যা পরে ‘ঈশ্বরের হাত’ নামে পরিচিতি পায়। কয়েক মিনিট পরই তিনি একক নৈপুণ্যে একাধিক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল করেন। আর্জেন্টিনা দুই-এক ব্যবধানে জিতে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপও জয় করে।
উনিশশো আটানব্বই সালের বিশ্বকাপে আবারও নাটকীয় লড়াইয়ে মুখোমুখি হয় দুই দল। নির্ধারিত সময়ে দুই-দুই গোলে সমতা থাকলেও অতিরিক্ত সময়েও ফল না বদলায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডের ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড এবং শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার জয় দীর্ঘদিন আলোচনায় ছিল।
দুই হাজার দুই সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড আগের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়। ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টির একমাত্র গোলে ইংল্যান্ড জয় পায় এবং আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়।
বিশ্বকাপে দুই দলের প্রতিটি লড়াই শুধু ফুটবলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; ইতিহাস, আবেগ এবং তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাও প্রতিবার ম্যাচকে বিশেষ মাত্রা দিয়েছে। এবারও সেমিফাইনালের লড়াইয়ে সেই পুরোনো উত্তেজনা নতুন করে ফিরে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দলের বর্তমান তারকাবহুল স্কোয়াড, অতীতের ইতিহাস এবং ফাইনালে ওঠার সুযোগ—সব মিলিয়ে এবারের ম্যাচটি বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই হতে যাচ্ছে।
















