কিউবা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অবরোধকে ‘নিষ্ঠুর’ আখ্যা দিয়ে এর অবসানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন চেয়েছে। একই সঙ্গে হাভানা অভিযোগ করেছে, ওয়াশিংটন গত কয়েক মাসে দেশটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেছে।
জাতিসংঘে বক্তব্যে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ বলেন, প্রায় সাত দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার বিরুদ্ধে বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, যা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরও কঠোর হয়েছে।
তাঁর দাবি, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অবরোধের কারণে কিউবার অর্থনীতির ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সাত শতাংশ বেশি। তবে এই হিসাবের মধ্যে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আরোপিত জ্বালানি অবরোধের পূর্ণ প্রভাব অন্তর্ভুক্ত নয়।
আন্তর্জাতিক সমর্থন
আফ্রিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চলসহ বিশ্বের বিভিন্ন আঞ্চলিক জোট ও সদস্য রাষ্ট্র কিউবার প্রতি সমর্থন জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের সমালোচনা করেছে।
১৯৯২ সাল থেকে প্রতি বছরই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে কিউবার ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব বিপুল সমর্থনে গৃহীত হয়ে আসছে।
তবে গত বছরের তুলনায় এবারের সমর্থন কিছুটা কমেছে। সর্বশেষ ভোটাভুটিতে ১৬৫টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়, যেখানে আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ১৮৭। বিতর্ক আয়োজনের প্রশ্নেও সমর্থন কিছুটা কমে ১৩৬-এ নেমে এসেছে এবং কয়েকটি পশ্চিমা দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা বক্তব্য
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ কিউবার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “কিউবার ওপর কোনো মার্কিন অবরোধ নেই। প্রকৃত অবরোধ হচ্ছে কিউবার সরকার নিজ জনগণের ওপর যে দমননীতি চালাচ্ছে।”
তিনি কিউবার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিরও সমালোচনা করেন।
সম্পর্কের টানাপোড়েন
ব্রুনো রদ্রিগেজ জানান, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ সত্ত্বেও দুই দেশের সম্পর্কের কোনো অগ্রগতি হয়নি। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র যতদিন কিউবাকে পরাজিত বা উপনিবেশের মতো বিবেচনা করবে, ততদিন অর্থবহ অগ্রগতির সম্ভাবনা নেই।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি স্তাভরোস ল্যামব্রিনিদিস বলেন, কিউবার বর্তমান সংকটের জন্য শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধই দায়ী নয়; দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারেরও প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নের আহ্বান জানান।
জ্বালানি ও মানবিক সংকট
চলমান অবরোধের কারণে কিউবা জ্বালানি সংকটে পড়েছে। দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মুখে পড়ছে।
এছাড়া খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় পানি ও ওষুধের সংকটও তীব্র হয়েছে। জাতিসংঘ ইতোমধ্যে দেশটিতে সম্ভাব্য মানবিক জরুরি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
















