যুদ্ধবিরতির সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে ইরানের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। টানা দ্বিতীয় দিনের এই হামলার পর উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং পূর্ণমাত্রার সংঘাতে ফিরে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ইরানের একাধিক পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এবং উপকূলীয় এলাকায় মার্কিন বাহিনী হামলা চালায়। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানায়, একটি বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত একজন অগ্নিনির্বাপক কর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া কয়েকটি সামরিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যেই এই হামলা পরিচালিত হয়েছে। তাদের দাবি, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার, নৌ সক্ষমতা এবং সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থাসহ প্রায় ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
অন্যদিকে হামলার কয়েক ঘণ্টা পর বাহরাইন ও কুয়েতে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রকেট ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করছে।
পরে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র হামলা অব্যাহত রাখলে অঞ্চলের অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটিও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির একজন মুখপাত্রও হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এদিকে মঙ্গলবারও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বড় ধরনের হামলা চালায়। তখন ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাব হিসেবে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে গত জুনে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। ওই সমঝোতার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে উভয় পক্ষের ভিন্ন ব্যাখ্যা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইরানের হামলার জবাবেই নতুন অভিযান চালানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রাখার সুযোগ এখনো রয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থাপনা কেবল ইরানের শর্তেই পরিচালিত হবে এবং বাহ্যিক চাপের কাছে তারা নতি স্বীকার করবে না।
















