বিমানভাড়া ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণে উল্লেখযোগ্য মন্দা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় ভ্রমণ ব্যয় বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পর্যটন ও বিমান পরিবহন খাতে।
সাম্প্রতিক ছুটির সময় দেশটির বিমানবন্দরে যাত্রী চলাচল আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কয়েক দিনের ছুটিতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি পার হওয়া যাত্রীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে।
সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রায় অর্ধেক মার্কিন নাগরিক এ গ্রীষ্মে কোথাও বেড়াতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিশেষ করে বিমানভাড়া ও ব্যক্তিগত গাড়িতে ভ্রমণের জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়াই এ সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে উত্তর আমেরিকাজুড়ে ভ্রমণ বাড়বে বলে ধারণা করা হলেও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সেই প্রত্যাশা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হচ্ছে না। অধিকাংশ দর্শনার্থী নিজ নিজ দেশের ভেতরেই সীমিত ভ্রমণ করছেন বলে বাজার বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ।
চলতি বছরের শুরু থেকেই বিমান পরিবহন খাত জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির চাপে রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিমানভাড়া উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর প্রভাবে বেশ কয়েকটি বড় বিমান সংস্থা ভাড়া বৃদ্ধি, রুট কমানো এবং ব্যয় সংকোচনের উদ্যোগ নিয়েছে। একটি স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা কার্যক্রমও বন্ধ করে দিয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্মকাল সাধারণত বিমান সংস্থাগুলোর সবচেয়ে লাভজনক সময়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ফ্লাইট পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে ভাড়া আরও বাড়তে পারে এবং এর প্রভাব আগামী কয়েক মাস অব্যাহত থাকতে পারে।
ইউরোপের বিমান সংস্থাগুলোও একই ধরনের সংকটে রয়েছে। জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশপথে বিধিনিষেধের কারণে দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে, ফলে পরিচালন ব্যয় আরও বেড়েছে। অন্যদিকে এশিয়ার কিছু বিমান সংস্থা তুলনামূলক কম বিধিনিষেধের কারণে কিছু ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
অনেক যাত্রী এখন বিমান ভ্রমণের পরিবর্তে সড়কপথ বেছে নিচ্ছেন। তবে গাড়ির জ্বালানির দামও আগের তুলনায় অনেক বেশি থাকায় সেখানেও ব্যয়ের চাপ বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে বিশ্বব্যাপী পর্যটন ও বিমান পরিবহন শিল্পের ওপর চাপ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
















