ক্যামেরুনে প্রতিটি শিশুর জন্মনিবন্ধন নিশ্চিত করার উদ্যোগ জোরদার হলেও এখনো লাখো শিশু সরকারি নথির বাইরে রয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আইনি পরিচয় না থাকায় এসব শিশু শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
দেশটির আইন অনুযায়ী, জন্মের ৯০ দিনের মধ্যে বিনা খরচে জন্মনিবন্ধন করা যায়। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলে প্রক্রিয়াটি জটিল হয়ে পড়ে। এক বছর অতিক্রম করলে আদালতের মাধ্যমে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করতে হয়, যা অনেক পরিবারের জন্য ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।
উত্তরাঞ্চলের এক বাসিন্দা জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় কয়েক বছর আগে তার বড় সন্তানকে বিদ্যালয় থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নবজাতকের জন্মের পরপরই নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ায় সেই সমস্যার সমাধান হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী জন্মনিবন্ধন ছাড়াই পড়াশোনা করছে। সংখ্যার হিসাবে এটি প্রায় ১৫ লাখ শিশু।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জন্মনিবন্ধন না থাকলে মাধ্যমিক শিক্ষায় ভর্তি হওয়া, পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে ভবিষ্যতে নানা সরকারি ও সামাজিক সেবা থেকেও তারা বঞ্চিত হতে পারে।
শিশু সুরক্ষাবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিচয়পত্রবিহীন শিশুদের খুঁজে বের করা, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা কিংবা প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া কঠিন হয়ে যায়। সংঘাতপ্রবণ এলাকায় এমন শিশুরা শোষণ ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাবে পড়ার ঝুঁকিতেও থাকে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন অংশীদারের সহযোগিতায় দেশজুড়ে জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নতুন উদ্যোগের আওতায় বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই জন্মের পরপর নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলেও নিবন্ধনসেবা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তাদের দাবি, এ কর্মসূচি শুরুর পর এখন পর্যন্ত ১৭ হাজারের বেশি শিশুর জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সনদ দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সম্প্রদায়ের নেতাদের মাধ্যমে নিবন্ধনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তবে সচেতনতার অভাব এখনো বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। অনেক পরিবার সন্তান বিদ্যালয়ে ভর্তি বা পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা পর্যন্ত জন্মনিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে না। এছাড়া কিছু গ্রামীণ এলাকায় মেয়েশিশুর নিবন্ধন ও শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে নেতিবাচক সামাজিক ধারণাও এখনো বিদ্যমান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনিক সংস্কারের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে নিবন্ধনসেবা সহজলভ্য করা গেলে পরিচয়হীন শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।
















