হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পদ বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সদ্য প্রকাশিত আর্থিক বিবরণীতে দেখা গেছে, দায়িত্বে ফেরার প্রথম বছরে তিনি অন্তত দুই দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো দায়িত্বরত প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন ইতিহাসবিদরা।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই আয়ের বড় অংশ এসেছে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাত থেকে। এর মধ্যে নিজস্ব ডিজিটাল মুদ্রা এবং পারিবারিকভাবে পরিচালিত একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অর্থ এসেছে। এছাড়া বিভিন্ন রয়্যালটি ও বিনিয়োগ থেকেও বিপুল আয়ের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
ইতিহাসবিদদের মতে, অতীতের অধিকাংশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব গ্রহণের আগে নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেছেন অথবা সম্পদ স্বাধীন ব্যবস্থাপনার আওতায় দিয়েছেন, যাতে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ না ওঠে। কিন্তু ট্রাম্পের ক্ষেত্রে সেই প্রচলিত রীতি অনুসরণ করা হয়নি বলে সমালোচনা রয়েছে।
হোয়াইট হাউস অবশ্য সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রশাসনের দাবি, প্রেসিডেন্ট কিংবা তার পরিবারের কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম সরকারি সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেনি এবং সব সিদ্ধান্তই যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের স্বার্থে নেওয়া হয়েছে।
তবে নৈতিকতা বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি দায়িত্ব পালন করার সময় একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ব্যবসা থেকে বিপুল মুনাফা অর্জন স্বার্থের সংঘাত নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। বিশেষ করে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে সরকারি নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক লাভের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
ইতিহাসবিদদের ভাষ্য, অতীতে বিভিন্ন প্রশাসনে দুর্নীতি বা আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটলেও ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কোনো প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগতভাবে এত বড় আর্থিক লাভের উদাহরণ খুব কমই রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের সর্বশেষ আর্থিক বিবরণী যুক্তরাষ্ট্রে স্বচ্ছতা, নৈতিকতা এবং ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।















