শিশুদের সবজি খাওয়ানো অনেক পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক শিশু মিষ্টি বা নির্দিষ্ট ধরনের খাবারের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখায়, ফলে পুষ্টিকর সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে না। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, শৈশবেই কিছু সহজ কৌশল অনুসরণ করলে শিশুদের মধ্যে আজীবন স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস তৈরি করা সম্ভব।
গবেষকদের মতে, ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন ধরনের সবজি বারবার খেতে দেওয়া উচিত। প্রথমবার কোনো সবজি অপছন্দ করলেও নিয়মিত পরিবেশন করলে ধীরে ধীরে সেটির প্রতি আগ্রহ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের আগেই এই অভ্যাস গড়ে তোলা সবচেয়ে কার্যকর বলে মনে করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, খাবারের শুরুতেই শিশুদের সবজি পরিবেশন করলে তারা তা খাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কারণ তখন তাদের ক্ষুধা বেশি থাকে এবং অন্যান্য পছন্দের খাবার দিয়ে পেট ভরে যায় না। একই সঙ্গে খাবারের প্লেটে সবজির পরিমাণ বাড়িয়ে এবং বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবারের পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে দিলেও ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়।
সবজি আকর্ষণীয়ভাবে পরিবেশন করাও গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন নকশায় কেটে বা রঙিনভাবে সাজিয়ে পরিবেশন করলে শিশুরা নতুন খাবার খেতে বেশি আগ্রহী হয়। সহজে চোখে পড়ে এমন স্থানে স্বাস্থ্যকর খাবার রাখলেও সেগুলো বেছে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে শিশুরাও সেই অভ্যাস অনুসরণ করে। বাবা-মা নিজেরা নিয়মিত সবজি ও ফল খেলে শিশুদের মধ্যেও একই ধরনের খাদ্যাভ্যাস গড়ে ওঠার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের খাবার খেতে জোর করা বা স্বাস্থ্যকর খাবারের বিনিময়ে মিষ্টি বা অস্বাস্থ্যকর খাবার পুরস্কার হিসেবে দেওয়া উচিত নয়। বরং রান্নায় অংশ নিতে উৎসাহ দেওয়া, খাবার স্পর্শ করা, গন্ধ নেওয়া এবং নতুন উপকরণের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ দিলে তারা অচেনা খাবার গ্রহণে আরও আগ্রহী হয়ে ওঠে।
গবেষকদের মতে, প্রতিদিনের ছোট ছোট ইতিবাচক পরিবর্তনই শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
















