হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, বুদাপেস্ট রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থেকে “অনির্দিষ্ট মেয়াদের” অব্যাহতি পেয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই ছাড়ের মেয়াদ মাত্র এক বছর।
গত শুক্রবার ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়ার তেল কোম্পানি লুকয়েল ও রসনেফটের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নতুন নিষেধাজ্ঞা থেকে হাঙ্গেরিকে মুক্ত রাখা।
বৈঠকের পর অরবান হাঙ্গেরিয়ান গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা নিষেধাজ্ঞা থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি পেয়েছি।” তিনি জানান, তুর্কস্ট্রিম পাইপলাইন দিয়ে আসা রাশিয়ান গ্যাস এবং দ্রুজবা পাইপলাইন দিয়ে আসা তেল এই অব্যাহতির আওতায় পড়বে।
কিন্তু পরবর্তীতে হোয়াইট হাউস রয়টার্সকে জানায়, এই অব্যাহতি এক বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। তবে শনিবার হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার সিজিয়ার্তো সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় আমরা অনির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি পেয়েছি। হাঙ্গেরিতে রাশিয়ান তেল ও গ্যাস আমদানিতে কোনো বাধা নেই, এটি অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।”
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস আবারও ইমেইলের মাধ্যমে জানিয়েছে, অব্যাহতির মেয়াদ এক বছরের বেশি নয়।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তির অংশ হিসেবে হাঙ্গেরি যুক্তরাষ্ট্র থেকে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনারও অঙ্গীকার করেছে, যার মোট মূল্য প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার।
অরবান দীর্ঘদিন ধরে মস্কো ও ওয়াশিংটন—দুই পক্ষের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন, যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক দেশ রাশিয়ার ওপর কঠোর চাপের পক্ষে। তিনি ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে একটি বৈঠক বুদাপেস্টে আয়োজনের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন, যদিও সেই বৈঠক শেষ পর্যন্ত বাতিল হয় এবং ট্রাম্প তার প্রশাসনের প্রথমবারের মতো রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
রাশিয়ান জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হাঙ্গেরি এখন রাজনৈতিকভাবে এক সূক্ষ্ম ভারসাম্যের পথে হাঁটছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটি তার মোট গ্যাসের ৭৪ শতাংশ এবং তেলের ৮৬ শতাংশ রাশিয়া থেকে আমদানি করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাশিয়ান গ্যাস বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে, হাঙ্গেরির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৪ শতাংশ হারানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অরবান সতর্ক করে বলেছেন, এই চুক্তি না হলে জ্বালানির মূল্য আকাশচুম্বী হয়ে যেত, অর্থনীতি বিপর্যস্ত হতো, বেকারত্ব বাড়ত এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা “অসহনীয়” হয়ে পড়ত।
















