জামায়াতসহ ৮ দলের হুঁশিয়ারি: জাতীয় নির্বাচনের আগেই হতে হবে গণভোট, ১১ নভেম্বর কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা
ঢাকা, ৯ নভেম্বর ২০২৫: গণভোটকে (রেফারেন্ডাম) কালক্ষেপণ করে আগামী জাতীয় নির্বাচনের দিন নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা না করতে অন্তর্বর্তী সরকারকে হুঁশিয়ার করেছে জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি ইসলামী ও সমমনা দল। তাদের দাবি, গণভোট অবশ্যই জাতীয় নির্বাচনের আগেই অনুষ্ঠিত হতে হবে।
এই দাবি মেনে নেওয়া না হলে আগামী ১১ নভেম্বর রাজধানী ঢাকায় জনসভা থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন জোটের নেতারা।
শনিবার জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ঢাকা মহানগর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আট দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গণভোট নিয়ে মতভেদ ও আলোচনার প্রস্তাব
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ জমা দেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণভোটের সময় নিয়ে মতভেদ চলছে। বিএনপি যেখানে ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, সেখানে জামায়াতসহ আট দল আগে করার দাবি তুলেছে।
- আলোচনায় আগ্রহ: অন্তর্বর্তী সরকার দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে মতৈক্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানালেও, আট দল আলোচনার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিল যা বিএনপি প্রত্যাখ্যান করে। আট দলের নেতারা জানান, বিএনপি তাদের আহ্বানে রাজি না হলেও বিএনপি যদি এবার তাদের আহ্বান জানায়, তাহলে তাঁরা সাড়া দেবেন।
আট দলের পাঁচ দফা দাবি
বৈঠকে আগামী ১১ নভেম্বরের জনসমাবেশ সফল করার পাশাপাশি পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়:
১. জুলাই সনদ ও গণভোট: জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি এবং আদেশের ওপর জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে গণভোট আয়োজন।
২. পিআর পদ্ধতি: আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে অথবা উচ্চকক্ষে পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতি চালু।
৩. লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড: অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।
৪. জুলুমের বিচার: গত ফ্যাসিস্ট সরকারের সব জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা।
৫. দল নিষিদ্ধকরণ: জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।
বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন্দ সহ আট দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
















