আর্কটিক অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও নিরাপত্তা উত্তেজনা বাড়তে থাকায় দীর্ঘদিনের সহযোগিতামূলক কাঠামো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে ভৌগোলিকভাবে আর্কটিকের বাইরে থাকা কয়েকটি দেশ বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে নতুন ধরনের প্রভাবশালী অংশীদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের সামরিক জোটে যোগদান, রাশিয়া-চীনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা, গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ এবং উত্তরাঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির ফলে আর্কটিক অঞ্চলের প্রচলিত সহযোগিতার পরিবেশ দুর্বল হয়েছে। এর ফলে আর্কটিক কাউন্সিলের কার্যকারিতাও সীমিত হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্কটিকের পরিবর্তন শুধু উত্তরাঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বৈশ্বিক আবহাওয়া ব্যবস্থা, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর এর প্রভাব বিশ্বের বহু দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোকে সম্ভাব্য ‘আর্কটিক মধ্যম শক্তি’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এসব দেশের আর্কটিকে কোনো ভূখণ্ডগত দাবি বা সামরিক উপস্থিতি না থাকলেও তারা দীর্ঘদিন ধরে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, মেরু অঞ্চলের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, সামুদ্রিক যোগাযোগ, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং কূটনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এসব দেশ সরাসরি ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় না জড়িয়ে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে আর্কটিকে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।
ভারত দীর্ঘদিন ধরে আর্কটিক গবেষণাকেন্দ্র পরিচালনা করছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে হিমালয় ও আর্কটিকের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করছে। অন্যদিকে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া বরফভেদী জাহাজ, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি, সামুদ্রিক অবকাঠামো এবং উন্নত গবেষণায় বিনিয়োগ করেছে। সিঙ্গাপুর সামুদ্রিক পরিবহন, পরিবেশবান্ধব নৌপরিবহন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মেরু অঞ্চলের নীতিনির্ধারণে অবদান রাখছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব দেশ যৌথভাবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, সবুজ নৌপরিবহন, বৈজ্ঞানিক তথ্য বিনিময় এবং টেকসই সামুদ্রিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে পারে। এতে আর্কটিক অঞ্চলে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং বৈশ্বিক জলবায়ু ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
তবে বিশ্লেষণে সতর্ক করা হয়েছে, এসব মধ্যম শক্তি আর্কটিকের বিদ্যমান শাসনব্যবস্থার বিকল্প নয়। তারা সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে এবং সংলাপ এগিয়ে নিতে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু আর্কটিক অঞ্চলের প্রধান দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং আর্কটিক কাউন্সিলকে পুনরুজ্জীবিত করাই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
















