যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। দলীয় নেতৃত্ব ও প্রধানমন্ত্রীত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি বলেছেন, পার্টির ভেতরে নতুন নেতৃত্বের দাবি সামনে আসায় তিনি সেই বাস্তবতাকে সম্মান জানাচ্ছেন।
সোমবার দেওয়া এক আবেগঘন ভাষণে স্টারমার বলেন, দুই বছর আগে লেবার পার্টিকে ক্ষমতায় এনে দেশের জন্য পরিবর্তনের যে অঙ্গীকার করেছিলেন, তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তাঁর সরকারের সময়ে অর্থনীতি শক্তিশালী হয়েছে, মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে, এনএইচএসের অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা কমেছে এবং কর্মী ও ভাড়াটিয়াদের অধিকারে বড় ধরনের সংস্কার আনা হয়েছে।
স্টারমার স্মরণ করেন, ২০২০ সালে দলীয় নেতৃত্ব গ্রহণের সময় লেবার পার্টি রাজনৈতিক, আর্থিক ও নৈতিক সংকটে ছিল। তবে দলকে পুনর্গঠন করে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক চাপ এবং দলীয় সংসদ সদস্যদের আস্থাহীনতার প্রেক্ষাপটে তিনি স্বীকার করেন যে, আগামী সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নতুন মুখ প্রয়োজন বলে অনেকেই মনে করছেন। “আমি আমার পার্লামেন্টারি পার্টির উত্তর শুনেছি এবং তা সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করছি,” বলেন স্টারমার।
তিনি জানান, লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটি ৯ জুলাই থেকে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবে এবং গ্রীষ্মকালীন বিরতির আগেই তা সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে। নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করবেন।
ভাষণে তিনি তাঁর মন্ত্রিসভার সহকর্মী, সরকারি কর্মকর্তা ও দলীয় কর্মীদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে স্ত্রী ভিক্টোরিয়া স্টারমার ও সন্তানদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, রাজনীতির বাইরে এখন তিনি পরিবারকে আরও বেশি সময় দিতে চান।
স্টারমারের পদত্যাগের ফলে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্বের লড়াই শুরু হতে যাচ্ছে। লেবার পার্টির সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের মধ্যে কয়েকজন শীর্ষ নেতার নাম ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে, যা আগামী মাসগুলোতে ব্রিটিশ রাজনীতির অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
















