যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (MoU) নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক থাকলেও, বিশ্লেষকদের মতে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকের প্রধান প্রত্যাশা একটাই—যুদ্ধের অবসান এবং অর্থনৈতিক স্বস্তি।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ এবং পরবর্তী সমঝোতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চার ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ যুদ্ধ ও শান্তি—দুটোকেই সমর্থন করেছেন, কেউ যুদ্ধ সমর্থন করলেও চুক্তিতে অসন্তুষ্ট, কেউ যুদ্ধ ও চুক্তি—উভয়ের বিরোধী, আবার সবচেয়ে বড় অংশটি যুদ্ধের বিরোধিতা করলেও শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে।
লেখকের মতে, এই শেষোক্ত গোষ্ঠীই মার্কিন জনমতের মূল প্রতিফলন। তারা নতুন কোনো মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ চায় না এবং জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের মূল্য কমাতে স্থিতিশীলতা প্রত্যাশা করে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের সরকারকে সামরিকভাবে উৎখাত করা স্থলবাহিনী ছাড়া প্রায় অসম্ভব—এ বিষয়টি সাম্প্রতিক সংঘাত আবারও প্রমাণ করেছে। একই সঙ্গে এই যুদ্ধ দেখিয়েছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করলে বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
নিবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েলের প্রত্যাশিত ‘দ্রুত বিজয়’ বাস্তবে অর্জিত হয়নি এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ঝুঁকি থেকেই গেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত মিত্ররাও এ ধরনের সামরিক অভিযানে সক্রিয় সমর্থন দিতে আগ্রহী নয় বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
লেখকের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত এমন একটি সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছেন, যা নিখুঁত না হলেও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের চেয়ে গ্রহণযোগ্য। কারণ যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মূল্য আরও বাড়তে পারত।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, রিপাবলিকান দলের অনেক কট্টরপন্থী নেতা এখনও কঠোর অবস্থানের পক্ষে থাকলেও সাধারণ ভোটারদের বড় অংশ যুদ্ধের পরিবর্তে স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নতি দেখতে চায়।
বিশ্লেষকের মতে, এই সমঝোতা হয়তো সব পক্ষকে সন্তুষ্ট করতে পারবে না, তবে যদি এটি তেলবাজার স্থিতিশীল করে, মূল্যস্ফীতি কমায় এবং নতুন সংঘাত এড়াতে সক্ষম হয়, তাহলে মার্কিন জনগণের কাছে তা গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
















