প্রায় চার মাসের সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা কার্যকর হয়েছে বলে উভয় পক্ষ জানিয়েছে। তবে চুক্তির বাস্তবায়ন, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে এখনো নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা কার্যকর হয়েছে এবং চূড়ান্ত সমাধানের লক্ষ্যে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে। তবে তেহরান স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে ইরানও নিজেদের প্রতিশ্রুতি পালন করবে না।
ইরান আরও জানিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কোনো আলোচনার বিষয় নয় এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক কর্মসূচি, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত, আন্তর্জাতিক পরিদর্শন এবং যাচাই ব্যবস্থার মতো জটিল বিষয়গুলো সমাধান করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। ফলে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে চুক্তিটি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন শিবিরের কিছু প্রভাবশালী নেতাও চুক্তির সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, এটি ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট কঠোর নয় এবং পুনর্গঠন সহায়তার বিষয়েও আপত্তি রয়েছে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে সামরিক উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে যে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না। সীমান্তবর্তী অনেক এলাকায় এখনো স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি ফিরেনি এবং সংঘাতের প্রভাব রয়ে গেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সমঝোতাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হলেও এর সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন, পারস্পরিক আস্থা এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার ফলাফলের ওপর।
















