যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত রায় দিয়েছেন যে, একটি চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান অর্থ কর্মকর্তার পূর্বে দেওয়া স্বীকারোক্তি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারি মামলায় প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তা কয়েক বছর আগে একটি সমঝোতা চুক্তির অংশ হিসেবে স্বীকার করেছিলেন যে প্রতিষ্ঠানটি ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করেছিল।
বিচারক তার রায়ে বলেন, প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দেওয়া ওই বক্তব্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। ফলে মামলার বিচারে তা গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, কর্মকর্তার ব্যক্তিগত স্বীকারোক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা উচিত নয় এবং প্রতিষ্ঠানটি নীরব থাকার অধিকার ভোগ করে। তবে আদালত সেই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বহুল আলোচিত এই মামলার সূত্রপাত কয়েক বছর আগে, যখন ওই কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর তিনি একটি সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে মুক্তি পান এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পরবর্তীতে প্রত্যাহার করা হয়।
তবে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। অভিযোগের মধ্যে আর্থিক প্রতারণা, বাণিজ্যিক গোপন তথ্য আত্মসাৎ এবং নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের বিষয়ও রয়েছে।
এদিকে প্রতিষ্ঠানটি সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বাজারে নানা বিধিনিষেধের মুখে পড়লেও প্রতিষ্ঠানটি নতুন খাতে সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি খাতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে।
মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া আগামী সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং এটি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও বাণিজ্য অঙ্গনে ব্যাপক গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
















