৬০০’র বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বেসামরিক স্থাপনাই প্রধান লক্ষ্য
ডনিপ্রোসহ একাধিক অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
রাশিয়ার রাতভর ব্যাপক হামলায় ইউক্রেনে অন্তত ৫ জন নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ডনিপ্রো শহর।
ইউক্রেনের জাতীয় পুলিশ জানায়, ডনিপ্রোতে ২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে এক শিশু ও দুই পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। একই সময়ে উত্তরের চেরনিহিভ অঞ্চল-এর নিঝিন শহরে দুইজন নিহত হন।
এছাড়া খারকিভ অঞ্চল-এ এক বছরের একটি শিশুও আহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার হামলার ধরন অপরিবর্তিত রয়েছে—ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করে মূলত শহরের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, এই হামলায় মোট ৬১৯টি ড্রোন ও ৪৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
ডনিপ্রোতে একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানার পর সেখানে উদ্ধার অভিযান চলছে। একই সঙ্গে ওডেসা, খারকিভ ও চেরনিহিভসহ বিভিন্ন এলাকায় জরুরি সেবা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
ডোনেৎস্ক অঞ্চলেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে আবাসিক ভবন, পোস্ট অফিস ও একটি গির্জাসহ একাধিক স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এর আগে, ওডেসায় রুশ হামলায় এক বৃদ্ধ দম্পতির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে, যা সাম্প্রতিক সহিংসতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রক্রিয়া জোরদার করছে। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, কারণ বিলম্ব হলে রাশিয়া নতুন কৌশল গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধের এই নতুন ধাপ আবারও প্রমাণ করছে—বেসামরিক জনগণই সবচেয়ে বেশি মূল্য দিচ্ছে এই সংঘাতের।
















