অতিরিক্ত অর্থ সরবরাহ বন্ধ ও ব্যাংক ঋণ কমানোর ঘোষণা; অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়তে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ক্ষুদ্র শিল্পে অগ্রাধিকার
অতিরিক্ত অর্থ ছাপিয়ে এবং স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঢালাও ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে অর্থনীতির যে ক্ষতি করা হয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শনিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) এবং গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে পৃথক প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি বলেন, অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহের ফলে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি এবং বেসরকারি খাতের ওপর চাপের নীতি থেকে বর্তমান সরকার সরে আসবে। অর্থমন্ত্রী সুস্পষ্টভাবে জানান, মার্চ মাসে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়েছে বলে যে তথ্য ছড়িয়েছে তা সঠিক নয়। বরং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখাই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। অতীতে পৃষ্ঠপোষকানির্ভর রাজনীতির কারণে অর্থনীতি নির্দিষ্ট কিছু মানুষের হাতে কুক্ষিগত ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার এখন অর্থনীতিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক করতে কাজ করছে।
আলোচনা সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি দায়িত্ব গ্রহণের সময় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা, যা গত ২২ এপ্রিল কমে ১১ হাজার ১০৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও জানান, পাঁচটি ইসলামি ব্যাংক একীভূত করার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং বন্ধ কারখানা চালু করতে দ্রুতই বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে। অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, অর্থনীতির সুফল সমাজের সব স্তরে পৌঁছাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন করা হচ্ছে। পরিবারের ব্যয় ব্যবস্থাপনায় নারীরা দক্ষ হওয়ায় এই উদ্যোগ সাশ্রয় ও বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করার মাধ্যমে মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমিয়ে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।
বাজেটের আকার বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ বাড়াতে হলে বাজেটের পরিধি বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। তিনি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME), গ্রামীণ কুটিরশিল্প এবং ন্যানো টেকনোলজির মতো খাতগুলোকে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। বাজার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেবল প্রশাসনিক পদক্ষেপে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করে চাহিদা ও জোগানের স্বাভাবিক নিয়মে বাজারকে চলতে দিতে হবে। ইআরএফ-এর পক্ষ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সম্পদ সুষম বণ্টন ও বৈষম্য হ্রাসের প্রস্তাবনা দেওয়া হলে অর্থমন্ত্রী তা বিবেচনার আশ্বাস দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক গণতন্ত্র টেকসই করতে হলে অর্থনৈতিক গণতন্ত্র নিশ্চিত করা এবং জনগণকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা অপরিহার্য।
















