কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটের ব্যবহার দ্রুত বাড়তে থাকায় গবেষকরা সতর্ক করছেন, মানুষের মানসিক সক্ষমতার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে লেখালেখি, বিশ্লেষণ ও স্মৃতিশক্তির মতো মৌলিক জ্ঞানীয় দক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষক নাটালিয়া কোসমিনা লক্ষ্য করেন, চাকরিপ্রার্থীদের অনেক আবেদনপত্র এক ধরনের ভাষা ও কাঠামোয় লেখা, যা থেকে ধারণা করা হয় যে এগুলো এআই ব্যবহার করে তৈরি। একই সঙ্গে তিনি দেখেন, শিক্ষার্থীরা আগের তুলনায় পড়াশোনার বিষয়বস্তু সহজে ভুলে যাচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যখন মানুষ নিজের চিন্তা ব্যবহার করে কাজ করে, তখন মস্তিষ্কে বেশি সক্রিয়তা দেখা যায়। কিন্তু যারা চ্যাটবট ব্যবহার করে কাজ করেছে, তাদের মস্তিষ্কের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল, কিছু ক্ষেত্রে তা অর্ধেকেরও নিচে নেমে গেছে। বিশেষ করে সৃজনশীলতা ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে যুক্ত অংশগুলো কম সক্রিয় ছিল।
এছাড়া, এআই ব্যবহারকারীরা নিজেদের লেখা বিষয়বস্তু মনে রাখতে পারেনি এবং অনেকেই মনে করেছে, কাজটির ওপর তাদের ব্যক্তিগত মালিকানা নেই। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এআই ব্যবহারের ফলে মানুষ তথ্য মনে রাখা ও পুনরুদ্ধারের ক্ষমতা হারাতে পারে।
পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, অনেক ব্যবহারকারী এআই-এর দেওয়া তথ্য যাচাই না করেই মেনে নেয়, যা “চিন্তাগত আত্মসমর্পণ” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অর্থাৎ মানুষ নিজের বিচারবুদ্ধির বদলে প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, চিকিৎসা ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। এক গবেষণায় দেখা যায়, ক্যানসার শনাক্ত করতে এআই ব্যবহারের পর চিকিৎসকেরা নিজেরা রোগ নির্ণয়ে তুলনামূলক দুর্বল হয়ে পড়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে যদি মানুষ নিয়মিত নিজের চিন্তাশক্তি ব্যবহার না করে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে তা মানসিক অবক্ষয় এমনকি স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখার জন্য চিন্তা, বিশ্লেষণ ও সমস্যার সমাধান করার অভ্যাস বজায় রাখা জরুরি।
তবে গবেষকরা এটাও বলছেন, এআই সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিকর নয়। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি সহায়ক হতে পারে। প্রথমে নিজে চিন্তা করা এবং পরে প্রযুক্তিকে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের উচিত এআই-এর ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নিজের যুক্তি ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বজায় রাখা। তাতে প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি মানসিক সক্ষমতাও অটুট রাখা সম্ভব হবে।
















