ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পর্যটনকেন্দ্র পাহালগাম-এ ভয়াবহ হামলার এক বছর পার হলেও নিহতদের পরিবারের কাছে সেই ক্ষত এখনো তাজা রয়ে গেছে। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল সশস্ত্র হামলায় ২৬ জন নিহত হন, যা কয়েক দশকের মধ্যে বেসামরিকদের ওপর অন্যতম বড় হামলা হিসেবে বিবেচিত।
নিহতদের মধ্যে ছিলেন নববিবাহিত শুবম দ্বিবেদী। তার স্ত্রী ঐশান্যা দ্বিবেদী এখনো স্বামীর স্মৃতিতে আবদ্ধ হয়ে আছেন। তিনি জানান, তাদের ঘরের কোনো কিছুই সরানো হয়নি। বিছানার একপাশ এখনো স্বামীর জন্য ফাঁকা রাখা হয়, সেখানে তিনি বসেন না বা ঘুমান না।
হামলার দিনটির স্মৃতি এখনো স্পষ্ট তার কাছে। বিয়ের মাত্র দুই মাস পর স্বামীর সঙ্গে তিনি কাশ্মীরে ঘুরতে গিয়েছিলেন। সেদিন পাহালগামের একটি সবুজ উপত্যকায় ঘোরার সময় এক বন্দুকধারী তার স্বামীকে লক্ষ্য করে গুলি করে হত্যা করে। ঐশান্যা জানান, তিনি নিজেকেও হত্যা করার অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু হামলাকারীরা তা করেনি।
এই হামলা নিয়ে ভারত পাকিস্তানভিত্তিক একটি গোষ্ঠীকে দায়ী করে, যদিও পাকিস্তান সেই অভিযোগ অস্বীকার করে। এরপর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে এবং কয়েকদিন ধরে সংঘর্ষ চলে, যা পরে যুদ্ধবিরতিতে শেষ হয়।
আরেক ভুক্তভোগী বিনয় নারওয়াল, যিনি বিয়ের এক সপ্তাহের মধ্যেই হানিমুনে গিয়ে নিহত হন। তার পরিবার এখনো সেই শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তার বাবা রাজেশ নারওয়াল জানান, তারা এখনো তার ছবি ঘরে টাঙানোর সাহস পাননি, এমনকি তার নাম উচ্চারণ করতেও কষ্ট হয়।
নিহতদের পরিবারগুলো ভিন্নভাবে শোক সামলানোর চেষ্টা করছে। কেউ স্মৃতি ধরে রাখতে নিয়মিত কথা বলেন, আবার কেউ নীরবতায় সেই শোক বহন করছেন। তবে সবার কাছেই ক্ষতির বেদনা সমান গভীর।
ঐশান্যা বলেন, স্বামীকে হারানোর কষ্ট কখনোই মুছে যাবে না, কিন্তু জীবন থেমে থাকতে পারে না। তিনি লেখালেখি ও সংগীতের মাধ্যমে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করছেন, যদিও এখনো নাচে ফিরতে পারেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার প্রভাব শুধু নিরাপত্তা বা রাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে, যা সময়ের সঙ্গে বদলালেও পুরোপুরি কখনোই মুছে যাবে না।
















