আফ্রিকার ছোট দেশ জিবুতিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে দীর্ঘদিনের শাসক ইসমাইল ওমর গুয়েলেহ ষষ্ঠবারের মতো ক্ষমতায় আসার পথে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বছর প্রেসিডেন্টের বয়সসীমা তুলে দেওয়ায় তার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ সুগম হয়।
এবারের নির্বাচনে প্রায় দুই লাখ ছাপ্পান্ন হাজার ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। গুয়েলেহর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন মোহাম্মদ ফারাহ সামাতার, যার দল পার্লামেন্টে কোনো আসন নেই।
ভোটগ্রহণ শুরুর পর প্রথম দিকে উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেছে এবং রাজধানীর কিছু কেন্দ্রে দেরিতে ভোট শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। নির্বাচন শেষে স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে এবং প্রাথমিক ফল দ্রুতই প্রকাশ করা হতে পারে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে দেশটির সরকারকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা দমনের অভিযোগ করে আসছে, যদিও সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ২০১৬ সাল থেকে প্রধান বিরোধী দলগুলোর মধ্যে কয়েকটি নির্বাচন বর্জন করে আসছে।
১৯৯৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা গুয়েলেহ ইতোমধ্যে প্রায় ২৭ বছর দেশ শাসন করছেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে তিনি প্রায় শতভাগ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
বিশ্লেষকদের মতে, বয়সসীমা বাতিল করা মূলত ক্ষমতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি পদক্ষেপ। তবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো গণতান্ত্রিক উদ্বেগের চেয়ে স্থিতিশীলতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
লাল সাগর অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কারণে জিবুতি আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, চীনসহ বিভিন্ন দেশের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং এটি পার্শ্ববর্তী স্থলবেষ্টিত দেশগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
নির্বাচনী প্রচারণায় গুয়েলেহ দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়টিকে প্রধান অর্জন হিসেবে তুলে ধরেছেন, বিশেষ করে এমন এক অঞ্চলে যেখানে অনেক দেশ সংঘাত ও অস্থিরতার মুখে রয়েছে।
















