আগ্রহ দেখালেও হামলা অব্যাহত, অনিশ্চয়তা কাটেনি
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু করার নির্দেশ দিলেও বাস্তবে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। কারণ আলোচনার কথা বলার পাশাপাশি ইসরায়েল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং হিজবুল্লাহও পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে।
ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা যত দ্রুত সম্ভব লেবাননের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে চায়। এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বেইরুতের পক্ষ থেকে বারবার সংলাপের আহ্বানের পর। তবে একই সঙ্গে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেছেন, হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলা চলবে।
সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় হামলায় লেবাননে শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার পরও শুক্রবার পর্যন্ত সীমিত আকারে হামলা চলতে থাকে। হিজবুল্লাহও ইসরায়েলের ভেতরে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থায় যুদ্ধবিরতি আলোচনা বাস্তবে শুরু হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী আলোচনার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন, তবে তিনি বলেছেন, দেশের ওপর হামলা চলতে থাকলে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ সরাসরি ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনার বিরোধিতা করেছে।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান। ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনাকে গুরুত্ব দিয়ে ইসরায়েলের ওপর চাপ দিচ্ছে হামলা কমানোর জন্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে হামলা কমাতে বলার কথাও জানিয়েছেন।
তবুও ইসরায়েলের সামরিক নেতৃত্ব জানিয়েছে, তারা যেকোনো সময় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ আবার শুরু করতে প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন ইস্যু এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান বলছে, লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে পুরো চুক্তিই ভেঙে যেতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে লেবাননে যুদ্ধবিরতি শুধু দুই দেশের বিষয় নয়, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েছে।
সব মিলিয়ে, আলোচনা শুরু হওয়ার ইঙ্গিত থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। হামলা বন্ধ না হলে এই উদ্যোগ কার্যকর হওয়া কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
















