ভারতে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা শুরু হওয়ায় তা নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও সমালোচকদের আশঙ্কা, এই বিশাল তথ্যভাণ্ডার ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কাজে ব্যবহার হতে পারে।
১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই জনগণনায় প্রায় ৩০ লাখ গণনাকারী নিয়োজিত রয়েছেন। পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য নিজেই তথ্য জমা দেওয়ার অনলাইন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। প্রথম ধাপে বাসাবাড়ির অবস্থা ও অবকাঠামো সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, যেখানে বিদ্যুৎ, পানির সুবিধা, সম্পদের মালিকানা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পরবর্তী ধাপে জনসংখ্যার বয়স, শিক্ষা, পেশা, স্থানান্তর প্রবণতা এবং অন্যান্য সামাজিক-অর্থনৈতিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রায় এক শতাব্দী পর প্রথমবারের মতো সব সম্প্রদায়ের বর্ণভিত্তিক তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
সরকার বলছে, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে এই জনগণনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে সমালোচকরা মনে করছেন, এত সংবেদনশীল তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষিত হওয়ায় তা অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়ছে।
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর বড় অংশের প্রযুক্তিগত দক্ষতা কম হওয়ায় অনলাইন পদ্ধতি তাদের জন্য জটিল হয়ে উঠতে পারে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে তথ্য জমা দেওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে, যা জালিয়াতির ঝুঁকি সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন, জনগণনার তথ্য ভবিষ্যতে নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণ, সংরক্ষণ নীতি এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এতে আঞ্চলিক ভারসাম্য নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাদের মতে, প্রযুক্তির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এসব বিষয় নিশ্চিত না হলে জনগণের আস্থা অর্জন কঠিন হবে এবং পুরো প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়তে পারে।
















