মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেও দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। সামরিক নেতৃত্বের প্রভাব অব্যাহত থাকায় বহু দলীয় গণতন্ত্রের আশা ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
গত ৩ এপ্রিল সাবেক সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর এবার সংবিধান অনুযায়ী তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপ্রধানের পদে আসীন হন। একই সঙ্গে দুইজনকে সহ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অভ্যুত্থানের পর প্রথমবারের মতো ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ধাপে ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সামরিক সমর্থিত দল বিপুল আসনে জয়লাভ করে। তবে সাবেক নেতা অং সান সু চির দলকে নিষিদ্ধ করায় তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। অনেক এলাকায় ভোটগ্রহণ হয়নি এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন শূন্য রয়ে গেছে।
নির্বাচনকে আন্তর্জাতিকভাবে বৈধতা দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হলেও সমালোচকরা বলছেন, এতে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কোনো লক্ষণ নেই। বরং সামরিক বাহিনী এখনো সংসদে উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা ধরে রেখেছে, যেখানে নির্দিষ্ট অংশের আসন সরাসরি সেনা সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে মিন অং হ্লাইং সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের রদবদল করেন এবং নিজের ঘনিষ্ঠদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসান। এছাড়া একটি পরামর্শ কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় তার প্রভাব আরও জোরদার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশটির বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘাত এখনো অব্যাহত রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলগুলোতে সম্পদ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিন ধরে চলমান।
প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও এই অস্থিরতা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে বিপুল সংখ্যক শরণার্থী অবস্থান করছে, আর তাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। থাইল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে, আঞ্চলিক উদ্যোগগুলো এখনো কার্যকর ফল দিতে পারেনি। বিভিন্ন দেশ নিজেদের স্বার্থে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছে, ফলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চাপ তুলনামূলকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
সব মিলিয়ে, জনগণের মধ্যে গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকলেও বর্তমান বাস্তবতায় তা শিগগিরই বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
















