লাল সাগরের প্রবেশদ্বারে কৌশলগত অবস্থান, বিশ্বশক্তির প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু
যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ একাধিক দেশের ঘাঁটি, ভূরাজনীতিতে গুরুত্ব বাড়ছে জিবুতির
আফ্রিকার ছোট দেশ জিবুতি প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ না হলেও তার ভৌগোলিক অবস্থানই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় সম্পদ। এই কারণেই দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স, জাপান ও ইতালিসহ বিভিন্ন দেশের সামরিক ঘাঁটি গড়ে উঠেছে।
লাল সাগরের প্রবেশমুখ বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি অবস্থান জিবুতিকে বিশ্ব বাণিজ্য ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবাহিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলের মাধ্যমে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য এবং ইন্টারনেট সংযোগের বড় অংশ পরিচালিত হয়, যা জিবুতির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।
২০০১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্র পূর্ব আফ্রিকায় সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের জন্য জিবুতিকে বেছে নেয়। বর্তমানে এটি আফ্রিকায় তাদের একমাত্র স্থায়ী সামরিক ঘাঁটির স্থান।
এর আগে থেকেই ফ্রান্স সেখানে অবস্থান করছিল। পরে জলদস্যুতা মোকাবিলা এবং বাণিজ্যিক নিরাপত্তার কারণে জাপান, ইতালি ও চীনও সেখানে ঘাঁটি স্থাপন করে।
জিবুতি সরকার এই ঘাঁটিগুলো থেকে ভাড়া নিয়ে অর্থ আয় করছে। বিভিন্ন দেশ বছরে কোটি কোটি ডলার পরিশোধ করে সেখানে তাদের উপস্থিতি বজায় রাখছে।
তবে এই অর্থনৈতিক সুবিধা সত্ত্বেও দেশের সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রায় খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি। উচ্চ বেকারত্ব ও দারিদ্র্য এখনো বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক শক্তিধর দেশের উপস্থিতি জিবুতিকে যেমন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ করেছে, তেমনি এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ ভারসাম্যের মধ্যেও ফেলেছে।
বর্তমান বৈশ্বিক উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই অঞ্চলের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতাও তীব্র হয়েছে।
সব মিলিয়ে, জিবুতি তার ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা অর্জন করলেও, এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন ও উদ্বেগ রয়ে গেছে।
















