‘আমার সন্তানের কী দোষ ছিল’—মায়ের কান্নায় ভারী এলাকা, ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয়রা
শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, স্নাইপার হামলায় শিক্ষা জীবনে চরম ঝুঁকি
ইয়েমেনের তায়িজ শহরে স্কুলে যাওয়ার পথে স্নাইপারের গুলিতে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
নিহত কিশোর তার ছোট ভাইবোনদের সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয়। পরিবারের অভিযোগ, হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে এই হামলা চালানো হয়েছে।
নিহতের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার সন্তান কোনো অপরাধ করেনি, কেবল বইয়ের ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যাচ্ছিল। এমন নির্মমভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে কেন, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
পরিবারটি আগেই যুদ্ধের কারণে চরম কষ্টে ছিল। কয়েক বছর আগে রহস্যজনকভাবে স্বামীকে হারানোর পর নিহত কিশোরই ছিল পরিবারের প্রধান ভরসা।
ঘটনাস্থল এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সেখানে প্রায়ই স্নাইপার হামলার ঝুঁকি থাকে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে আড়াল তৈরি করা হলেও তা পুরোপুরি কার্যকর নয়।
নিহতের ছোট বোন জানায়, ভাই তার পাশে হাঁটছিল এবং হাসছিল। হঠাৎ সে থেমে যায়, পড়ে যায় এবং রক্ত ঝরতে দেখে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
এই ঘটনার পর পরিবারটি অন্য সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। জানাজায় বিপুল মানুষের উপস্থিতি ছিল এবং বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানিয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই হত্যাকাণ্ডকে কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং এটি সমাজের ভবিষ্যতের ওপর সরাসরি আঘাত।
তারা সতর্ক করেছেন, এভাবে চলতে থাকলে একটি প্রজন্ম ভয় আর অনিশ্চয়তার মধ্যে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়বে।
















