বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক হামলা, নিহত শতাধিক ও হাজারের বেশি আহত
যুদ্ধবিরতিতে লেবাননের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা, পরিস্থিতি আরও জটিল
ইসরায়েলি ভয়াবহ বিমান হামলার পর লেবাননজুড়ে আতঙ্ক, ভীতি ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
রাজধানী বৈরুতের একটি পোশাকের দোকানে থাকা এক নারী জানান, হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ শুরু হলে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, এমনকি রাস্তায় থাকা পশুরাও দৌড়ে পালাতে শুরু করে।
বিভিন্ন এলাকায় চালানো হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং এক হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক মানুষ আটকা পড়ায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই হামলা এমন সময় চালানো হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে লেবানন এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত কি না, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলছে, লেবানন এই যুদ্ধবিরতির অংশ নয়। অন্যদিকে মধ্যস্থতাকারী পক্ষের দাবি, লেবাননও চুক্তির আওতায় ছিল।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ইসরায়েল লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে চাচ্ছে।
হামলার সময় কোনো সতর্কতা না দেওয়ায় ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক স্থানে পুরো ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে এবং মানুষ আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসে।
হাসপাতালগুলোতে আহতদের ভিড় বাড়তে থাকায় রক্তের জরুরি প্রয়োজন দেখা দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষ স্বেচ্ছায় রক্ত দিতে এগিয়ে আসছে।
অনেক পরিবার নিজেদের বাসস্থান ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে। কেউ কেউ আগের হামলা থেকে পালিয়ে আসার পর আবারও নতুন করে বিপদের মুখে পড়েছেন।
একজন বাসিন্দা জানান, এত সংখ্যক বিস্ফোরণ একসঙ্গে তিনি আগে কখনো দেখেননি। শহরের বিভিন্ন স্থানে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে এবং চারদিকে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, হামলায় বেসামরিক এলাকাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
লেবাননের পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে এবং মানুষ আশঙ্কা করছে, এই সহিংসতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
















