হরমুজ প্রণালি খুললেও সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে, বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা
লক্ষ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহে ঘাটতি, দীর্ঘমেয়াদে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের পর সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এখনো কাটেনি। যুদ্ধের প্রভাবে তেল উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে, যার প্রভাব দীর্ঘদিন থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বে তেল ও গ্যাস পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। সাধারণ সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
যুদ্ধবিরতির পর এই পথ আবার খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগছে। কারণ অনেক তেলবাহী জাহাজ এখনো দূরবর্তী এলাকায় অবস্থান করছে এবং দ্রুত ফিরে আসা সম্ভব হচ্ছে না।
গত কয়েক সপ্তাহে তেলবাহী জাহাজের সংকট এবং স্থলভিত্তিক সংরক্ষণাগার পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অনেক দেশ তেল উত্তোলন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। ফলে উৎপাদন কমে গিয়ে বাজারে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয়টি দেশের তেল রপ্তানি কয়েকশ কোটি ব্যারেল কমে গেছে, যা বৈশ্বিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে।
বিশেষ করে ইরাক, কুয়েত ও কাতারের রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমেছে, অন্যদিকে কিছু দেশ বিকল্প পথে সীমিত পরিমাণ তেল সরবরাহ করতে পেরেছে।
যুদ্ধের কারণে অনেক তেলক্ষেত্র বন্ধ করে দিতে হয়েছে, যা পুনরায় চালু করা সহজ নয়। এতে সময় ও ব্যয় দুটোই বেশি লাগে।
বিশ্বজুড়ে এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানির দামে। অনেক দেশে জ্বালানির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং ব্যবহার সীমিত করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই সংকটের প্রভাব শুধু জ্বালানিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং খাদ্যপণ্যের দামসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে এবং বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
















