ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েল নিজেকে কৌশলগতভাবে দুর্বল অবস্থানে দেখতে পাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত
মেটা বিবরণ: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান নিয়ে সমালোচনা বেড়েছে; বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বরং আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, দীর্ঘ সংঘর্ষের পরও ইসরায়েল কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে এবং কৌশলগতভাবে দুর্বল অবস্থানে পড়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন জানালেও বলেছেন, এটি লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে অন্তর্ভুক্ত করে না।
অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ এই যুদ্ধবিরতিকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, ইসরায়েল সামরিকভাবে কিছু সাফল্য পেলেও রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার কোনো লক্ষ্যই পূরণ করতে পারেনি এবং এই ব্যর্থতার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলের প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থামানো এবং দেশটির শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করা। কিন্তু বাস্তবে এসব লক্ষ্য পূরণ হয়নি।
লন্ডনের এক গবেষকের মতে, ইরানের সরকার এখনো টিকে আছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দ্রুত পুনর্গঠন করা সম্ভব এবং তাদের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে।
অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, সামরিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইরান বরং কৌশলগতভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিক সাফল্য পেলেও সামগ্রিকভাবে ইরানই লাভবান হয়েছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে ইরানের ভূমিকা এই সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই জলপথ আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রকে চাপের মুখে ফেলে এবং শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির দিকে নিয়ে যায়।
এছাড়া, ইসরায়েলের হামলা ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলেছে। অনেক ক্ষেত্রে বিরোধী শক্তির পরিবর্তে সরকারই জনসমর্থন বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।
সমালোচকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আরও নড়বড়ে হয়েছে।
লেবাননে ইসরায়েলের চলমান হামলাও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করছে। ভবিষ্যতে এই হামলা অব্যাহত থাকবে কি না, তা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান আলোচনার ওপর।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে এই সংঘাতে ইসরায়েল বাস্তবে খুব কম অর্জন করেছে এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি হয়েছে।
















