ইরান চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ১০ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা “গুরুত্বপূর্ণ হলেও যথেষ্ট নয়” বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। নির্ধারিত সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
ইরানের এই প্রস্তাবটি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে না গিয়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের মাধ্যমে পৌঁছানো হয়েছে। আগে ৪৫ দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উঠলেও ইরান সেটি প্রত্যাখ্যান করে স্থায়ী সমাধানের ওপর জোর দেয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুরো অঞ্চলে সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন কাঠামো তৈরি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধপরবর্তী পুনর্গঠন।
তবে এই ১০ দফার পূর্ণাঙ্গ বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, যা নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা তার শর্ত পূরণ করে না। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ইরান যদি চুক্তিতে না আসে, তাহলে দেশটির সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এর আগে একটি ১৫ দফা পরিকল্পনাও দেওয়া হয়েছিল, যেখানে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার শর্ত ছিল। বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তবে ইরান সেই প্রস্তাবকে “অযৌক্তিক” বলে প্রত্যাখ্যান করে।
ইরানের দাবি, সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করে আরও বড় হামলা চালাতে পারে। তাই তারা স্থায়ী সমাধান ছাড়া কোনো বিরতিতে রাজি নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের অবস্থান এখনো অনেক দূরে অবস্থান করছে। যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিক কৌশলগত সুবিধা চাইছে, আর ইরান দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক নিশ্চয়তা দাবি করছে।
এই অবস্থায় সময়সীমা ঘনিয়ে এলেও যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে এবং সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
















