যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী মূলত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অক্ষমতা বা উত্তরাধিকার নির্ধারণের জন্য প্রণীত একটি ব্যবস্থা। বিশেষ পরিস্থিতিতে এই সংশোধনী ব্যবহার করে কোনো প্রেসিডেন্টকে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে দায়িত্ব থেকে সরানো যেতে পারে।
এই সংশোধনীর সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো ধারা ৪, যেখানে বলা হয়েছে—যদি ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রিসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য মনে করেন যে প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালনে অক্ষম, তাহলে তারা যৌথভাবে তাকে অযোগ্য ঘোষণা করতে পারেন। এরপর ভাইস প্রেসিডেন্ট কার্যত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। প্রেসিডেন্ট যদি নিজেকে সক্ষম দাবি করেন, তাহলে মন্ত্রিসভা ও ভাইস প্রেসিডেন্টকে তা চ্যালেঞ্জ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় কংগ্রেস, যেখানে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে প্রেসিডেন্টকে অক্ষম ঘোষণা করতে হয়।
এই সংশোধনী সাধারণত শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতার মতো পরিস্থিতির জন্য ব্যবহারের কথা ভাবা হয়েছিল। অতীতে এটি মূলত সাময়িকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য ব্যবহার হয়েছে, যেমন চিকিৎসার সময় প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব অন্যের কাছে অর্পণ করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো প্রেসিডেন্টের আচরণ বিতর্কিত বা প্রশ্নবিদ্ধ হলেও সেটি সবসময় এই সংশোধনী প্রয়োগের জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ এখানে মূল বিষয় হলো প্রেসিডেন্ট প্রকৃতপক্ষে দায়িত্ব পালনে অক্ষম কিনা।
এ কারণে ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করা অত্যন্ত বিরল এবং রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল একটি পদক্ষেপ। বাস্তবে এটি কার্যকর করতে হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রিসভা এবং কংগ্রেস—সব পক্ষের সম্মতি প্রয়োজন হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে, তবে এটি ব্যবহার করা হয় শুধুমাত্র অত্যন্ত গুরুতর পরিস্থিতিতে।
















