পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়া-এর রাজধানী আবুজা গড়ে ওঠার পেছনে রয়েছে হাজারো মানুষের উচ্ছেদের ইতিহাস, যাদের অনেকেই এখনও প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণ ও অধিকার থেকে বঞ্চিত।
আশির দশকের শেষ দিকে রাজধানী নির্মাণের সময় মাইতামা এলাকার বাসিন্দা লামি ইজেকিয়েল দেখেছিলেন কীভাবে তাদের পূর্বপুরুষের জমি ও খামার ধ্বংস করে ফেলা হয়। এখন আশির কোঠায় পৌঁছেও তিনি বলছেন, সেই সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন আজও হয়নি।
১৯৭৬ সালে সামরিক শাসনের সময় দেশের কেন্দ্রস্থলে ফেডারেল ক্যাপিটাল টেরিটরি গঠন করে রাজধানী স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই অঞ্চলে আগে বহু প্রজন্ম ধরে বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠীর বসবাস ছিল।
কিন্তু রাজধানী নির্মাণের পর সেই জমিতে গড়ে ওঠে বিলাসবহুল হোটেল, সরকারি ভবন, বিদেশি দূতাবাস এবং রাষ্ট্রপতির বাসভবন। একসময় যেখানে নদী ও কৃষিজমি ছিল, সেখানে এখন আধুনিক নগর অবকাঠামো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তাদের জমি কেড়ে নেওয়ার পর পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ, বাসস্থান কিংবা মৌলিক সুবিধা দেওয়া হয়নি। অনেককে জোরপূর্বক অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়, যেখানে পানি, বিদ্যুৎ বা কৃষিজমির অভাব ছিল।
উচ্ছেদ হওয়া মানুষদের একটি বড় অংশ এখনো নিজেদের পুরনো এলাকার নাম ধরে নতুন বসতিকে পরিচিত করে। তাদের দাবি, প্রতিশ্রুত জমির মালিকানার কাগজপত্রও এখনো দেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি ২০২৫ সালে আবারও একটি আদিবাসী এলাকায় বাড়িঘর ভেঙে ফেলার ঘটনা নতুন করে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বলছেন, সামান্য অর্থ দিয়ে তাদের ক্ষতি পূরণ সম্ভব নয়।
অধিকারকর্মীদের মতে, এই সমস্যা শুধু জমি বা ক্ষতিপূরণের নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের অভাবও বড় একটি বিষয়। এই অঞ্চলে অন্য প্রদেশের মতো নির্বাচিত গভর্নর নেই, ফলে স্থানীয় জনগণের কণ্ঠস্বর সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রতিফলিত হয় না।
ফলে একদিকে রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে উন্নয়ন দৃশ্যমান হলেও প্রান্তিক আদিবাসী এলাকাগুলো এখনও অবহেলিত। সেখানে সড়ক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অবস্থা নাজুক রয়ে গেছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও ক্ষোভ ভবিষ্যতে বড় ধরনের অস্থিরতার কারণ হতে পারে। তবে অনেকেই এখনও শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের অধিকার আদায়ের পক্ষে।
উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের দাবি একটাই—নিজেদের জমিতে স্বীকৃতি ও প্রতিনিধিত্ব। তাদের ভাষায়, “আমরা আমাদের নিজেদের ভূমিতে একটি কণ্ঠ চাই।”
















