অস্ট্রেলিয়ার কোয়ালাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া মারাত্মক ক্ল্যামিডিয়া রোগ এখন তাদের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে একটি দ্বীপ এই সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
গবেষণায় দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ডে কিছু এলাকায় প্রায় ৮৮ শতাংশ কোয়ালা এই রোগে আক্রান্ত। এই ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ অন্ধত্ব, বন্ধ্যত্ব, নিউমোনিয়া এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
তবে ক্যাঙ্গারু আইল্যান্ডে এখনো এই রোগের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। দ্বীপটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্ল্যামিডিয়া-মুক্ত কোয়ালা আবাসস্থল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে এটি প্রজাতিটির জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কিন্তু এই দ্বীপের কোয়ালাদেরও নিজস্ব সমস্যা রয়েছে। দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকার কারণে তাদের জিনগত বৈচিত্র্য কমে গেছে, ফলে তারা দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে শারীরিক ত্রুটিও দেখা যাচ্ছে।
গবেষকরা এখন এই সমস্যার সমাধানে নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। তারা মূল ভূখণ্ড থেকে জিনগতভাবে বৈচিত্র্যময় সুস্থ কোয়ালা এনে দ্বীপের কোয়ালাদের সঙ্গে প্রজননের ব্যবস্থা করতে চান, যাতে তাদের জিনগত শক্তি বাড়ে।
এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সুস্থ ও রোগমুক্ত কোয়ালা আবার মূল ভূখণ্ডে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে করে প্রজাতিটির দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়বে।
এরই মধ্যে কোয়ালাদের জন্য একটি টিকা উদ্ভাবিত হয়েছে, যা মৃত্যুহার কমাতে সহায়তা করছে। তবে বন্য পরিবেশে ব্যাপকভাবে টিকা প্রয়োগ করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।
অন্যদিকে ২০১৯-২০ সালের ভয়াবহ দাবানলে ক্যাঙ্গারু আইল্যান্ডের প্রায় ৮০ শতাংশ কোয়ালা মারা যায়, যা এই প্রজাতির জন্য বড় ধাক্কা ছিল। এরপর তাদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোয়ালারা এখন বিচ্ছিন্ন ছোট ছোট জনগোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, যা তাদের আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড় এবং রোগ—সব মিলিয়ে তাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে।
এই পরিস্থিতিতে জিনগত বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি করাকে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গবেষকদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে শুধু কোয়ালা নয়, অন্যান্য বিপন্ন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণেও এটি একটি নতুন মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।
সব মিলিয়ে, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না গেলে কোয়ালাদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
















