বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে খাদ্য সহায়তা কমে যাওয়ায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী আরও গভীর সংকটে পড়েছে বলে একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে আশঙ্কা করা হচ্ছে, পরিস্থিতি দ্রুত মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে এবং তাদের অধিকাংশই জীবিকার সুযোগ না থাকায় পুরোপুরি আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
বর্তমানে শরণার্থীরা মাসে জনপ্রতি প্রায় ১২ ডলার সমমূল্যের খাদ্য সহায়তা পেয়ে আসছিল, যা আগে থেকেই অপর্যাপ্ত বলে তারা জানিয়ে আসছিল। নতুন ব্যবস্থায় এই সহায়তা আরও কমে যাওয়ায় সংকট তীব্র হয়েছে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, অনেক পরিবার এখন মাসে মাত্র ৭ ডলার সমমূল্যের সহায়তা পাচ্ছে। এতে করে পরিবারগুলোর জন্য ন্যূনতম খাদ্য নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে শরণার্থীরা জানিয়েছে।
এক শিবিরবাসী জানান, এই কম সহায়তায় পরিবারের সদস্যদের খাবার জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা।
প্রতিবেদনটি বলছে, শিবিরে বসবাসকারী প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে শিশু নেতৃত্বাধীন পরিবারগুলো সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে আছে।
এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে, যা শিশুদের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। এতে অপহরণ, বাল্যবিয়ে ও শিশুশ্রমের প্রবণতা বাড়ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
খাদ্য সহায়তা কমানোর প্রতিবাদে শরণার্থীরা বিক্ষোভও করেছে। তারা পূর্ণ রেশন পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে এবং খাদ্যকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে শরণার্থীদের জীবন আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং তারা বেঁচে থাকার জন্য বিপজ্জনক পথে যেতে বাধ্য হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর বর্তমান অবস্থা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা বাড়ানো না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
















