যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বছর আগে শুল্ক বাড়িয়ে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করার পর বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। উৎপাদন বাড়ানো, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং নতুন বাজার তৈরির প্রতিশ্রুতি দিলেও এই নীতির প্রভাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে।
এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে গড় শুল্কহার কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে চারটি বড় পরিবর্তন স্পষ্ট হয়েছে।
প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক দূরত্ব দ্রুত বেড়েছে। পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের ফলে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পণ্যের অংশ অনেক কমে গেছে, যা দীর্ঘমেয়াদি বিচ্ছিন্নতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদাররা বিকল্প বাজারের দিকে ঝুঁকছে। অনেক দেশ এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নতুন বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামোতে পুনর্বিন্যাস দেখা যাচ্ছে।
তৃতীয়ত, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কেও টানাপোড়েন বেড়েছে। শুল্ক নীতির কারণে শুধু বাণিজ্য নয়, কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সহযোগিতার মনোভাব কিছু ক্ষেত্রে দুর্বল হয়েছে।
চতুর্থত, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে পণ্যের দাম বেড়েছে। অতিরিক্ত শুল্কের একটি বড় অংশ ভোক্তাদের ওপর চাপানো হয়েছে, যার ফলে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং ব্যবসায়িক খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সব মিলিয়ে এই শুল্ক নীতি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এখনও কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে, তবুও দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
















