দীর্ঘদিনের সমালোচনা ও জনচাপের পর জুয়া সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনে নতুন নিয়ন্ত্রণ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।
নতুন নীতিমালায় বিজ্ঞাপনের সময়, স্থান ও উপস্থাপনায় কড়াকড়ি আরোপ করা হলেও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। যদিও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ছিল।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সীমিত সুযোগ রেখে শিশুদের জুয়া বিজ্ঞাপন থেকে দূরে রাখাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী আগামী বছরের শুরু থেকে টেলিভিশনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তিনটি জুয়া বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে এবং সরাসরি ক্রীড়া সম্প্রচারের সময় এসব বিজ্ঞাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
স্কুলে আনা-নেওয়ার সময় রেডিওতে জুয়া বিজ্ঞাপন বন্ধ থাকবে। এছাড়া বিজ্ঞাপনে কোনো ক্রীড়াবিদ বা তারকা অংশ নিতে পারবেন না।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও কঠোর বিধিনিষেধ থাকবে। শুধুমাত্র লগইন করা প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য সীমিতভাবে এসব বিজ্ঞাপন দেখানো যাবে এবং তা বন্ধ করার সুযোগ রাখতে হবে।
খেলাধুলার মাঠে, খেলোয়াড়দের পোশাকে বা সংশ্লিষ্ট স্থানে জুয়া বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধ অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কিছু ধরনের অনলাইন জুয়া কার্যক্রম বন্ধ করা হবে।
তবে এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ জানিয়েছে জুয়া শিল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের দাবি, এতে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ক্রীড়া ও গণমাধ্যম খাতে অর্থায়নে প্রভাব পড়বে।
অন্যদিকে, জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো বলছে এই পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। তাদের মতে, আংশিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না এবং পুরোপুরি বিজ্ঞাপন বন্ধ না করলে শিশু ও সাধারণ মানুষ জুয়ার প্রভাব থেকে মুক্ত হবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বে মাথাপিছু জুয়ায় সবচেয়ে বেশি অর্থ হারানো দেশগুলোর একটি অস্ট্রেলিয়া। তাই এই নতুন নীতিমালা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
















