যুক্তরাষ্ট্রের নতুন স্বাস্থ্য সহায়তা চুক্তিকে ঘিরে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সহায়তার বিনিময়ে খনিজ সম্পদ ও সংবেদনশীল তথ্য চাওয়ার মাধ্যমে দরিদ্র দেশগুলোকে চাপের মুখে ফেলা হচ্ছে।
২০২৫ সালের শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ করে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সহায়তা স্থগিত করলে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছিলেন, এতে প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু বাড়তে পারে, যার বড় অংশই শিশু।
এরপর যুক্তরাষ্ট্র উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে নতুন ধরনের দ্বিপাক্ষিক স্বাস্থ্য চুক্তির প্রস্তাব দেয়। বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলোকে এসব প্রস্তাব দেওয়া হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে বিতর্কিত হয়ে ওঠে।
জিম্বাবুয়ে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ৩০ কোটি ডলারের বেশি সহায়তার প্রস্তাব দিলেও এর বিনিময়ে সংবেদনশীল স্বাস্থ্য তথ্য চেয়েছিল। দেশটি এই প্রস্তাবকে অসম ও অযৌক্তিক মনে করে আলোচনা থেকে সরে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে জাম্বিয়াকে ১০০ কোটি ডলারের সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হলেও সেখানে খনিজ সম্পদে প্রবেশাধিকার চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা প্রস্তাবের কিছু শর্তকে সমস্যাজনক বলে উল্লেখ করে তা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।
তবে নাইজেরিয়া ও কেনিয়ার মতো কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে এসব চুক্তিতে সই করেছে। যদিও এসব চুক্তির পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি, যা নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বাস্থ্য সহায়তার সঙ্গে খনিজ সম্পদ বা তথ্যের বিনিময় যুক্ত করা আগে কখনো দেখা যায়নি। এতে আফ্রিকার দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও নীতিগত স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
একই সঙ্গে এই চুক্তিগুলোতে দেশগুলোর নিজস্ব স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়ানোর শর্তও রাখা হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, অন্যরা বলছেন এটি দরিদ্র দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে।
জাম্বিয়ার ক্ষেত্রে জানা গেছে, সহায়তার বিনিময়ে তামা, কোবাল্ট ও লিথিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজে প্রবেশাধিকার চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি তথ্য ভাগাভাগির শর্তও রাখা হয়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে জিম্বাবুয়ে অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র গবেষণার জন্য স্বাস্থ্য তথ্য ও নমুনা নিতে চাইলেও এর সুবিধা ভাগাভাগি করতে রাজি হয়নি।
কেনিয়ায় একটি বড় চুক্তি নিয়ে আদালত হস্তক্ষেপ করেছে। ব্যক্তিগত তথ্য বিদেশে সরবরাহের আশঙ্কায় কিছু শর্ত স্থগিত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমানো জরুরি হলেও স্বাস্থ্য খাত এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাদের মতে, জীবন রক্ষাকারী স্বাস্থ্য সহায়তাকে যদি অন্য স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, তাহলে তা মানবিক মূল্যবোধ ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
















