মানবপাচারকারীদের অন্ধকার জাল ছিন্ন করে নতুন জীবনের আলো দেখলেন আটজন মানুষ — সাতজন নারী ও একটি শিশু।
কক্সবাজারের টেকনাফের দুর্গম বাহারছড়া পাহাড়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর যৌথ অভিযানে তাদের উদ্ধার করা হয়।
রাতের অন্ধকারে অভিযান, বাহারছড়ার জুম্মাপাড়া পাহাড়ে পাচারকারীরা গোপনে একটি দলকে মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বিকেল ৫টা থেকে ৭টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনী এক যৌথ অভিযান চালায়। অভিযানে ধরা পড়ে মানবপাচারের ভয়াবহ চিত্র।
=> নারী-শিশুদের মুক্তি
অভিযান শেষে মুক্তি পান সাতজন নারী ও এক শিশু।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শ্যাম-উল-হক আজ সকালে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, “তথ্য ছিল— কয়েকজন নারী-শিশুকে জিম্মি করে পাচারের প্রস্তুতি চলছিল। আমাদের সদস্যরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে। তবে অভিযানের আভাস পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যায়।কেউ ধরা না পড়লেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, পাচারকারীদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় নারী ও শিশু পাচারের ঘটনা নতুন নয়। দারিদ্র্য ও অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে পাচারকারীরা স্বপ্ন দেখায় বিদেশে যাওয়ার, অথচ বাস্তবে অপেক্ষা করে অনিশ্চিত গন্তব্য আর ভয়ংকর অভিজ্ঞতা।
এই উদ্ধার অভিযান আবারও মনে করিয়ে দিল—
- মানবপাচার এখনও বড় অভিশাপ
- নারী ও শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে
- সীমান্ত এলাকায় দরকার আরও কঠোর নজরদারি
উদ্ধার হওয়া আটজনের চোখে এখন স্বস্তির ছাপ। ভয়াবহ এক যাত্রার মুখ থেকে ফিরে তারা যেন আবার নতুন জীবন পেলেন।
















