ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক অভিযানে সহযোগিতা নিয়ে ন্যাটো জোটের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্রদের ওপর চাপ বাড়ালেও ইউরোপের অনেক দেশ সরাসরি অংশগ্রহণে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি
ট্রাম্প প্রশাসন চায়, ন্যাটো মিত্ররা হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া, সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি এবং সরাসরি সামরিক সহায়তা দিক। তবে এসব দাবিতে সাড়া মিলছে সীমিতভাবে।
মিত্রদের প্রতিক্রিয়া
স্পেন সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধসংক্রান্ত বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে এবং সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতিও দেয়নি।
ইতালি যুক্তরাষ্ট্রের বোমারু বিমানকে সিসিলির ঘাঁটি ব্যবহারে অনুমতি না দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে, যদিও তারা বলেছে বিষয়টি পৃথকভাবে বিবেচনা করা হবে।
যুক্তরাজ্য সীমিত সহযোগিতা দিচ্ছে। তারা কেবল নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষামূলক অভিযানে সহায়তা করছে এবং স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই যুদ্ধে সরাসরি জড়াবে না।
ফ্রান্সও তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইসরায়েলে অস্ত্র পরিবহনের অনুমতি দেয়নি, যা নিয়ে ট্রাম্প প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছেন।
পোল্যান্ডও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরানোর পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে মতভেদ
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর জন্য যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের নৌ সহযোগিতা চাইলেও ইউরোপের দেশগুলো এতে অংশ নিতে রাজি হয়নি।
জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, এটি তাদের যুদ্ধ নয় এবং তারা এতে জড়াতে চায় না। যুক্তরাজ্য সীমিত প্রযুক্তিগত সহায়তা যেমন মাইন অপসারণ নিয়ে আলোচনা করছে, তবে সরাসরি সামরিক অভিযান নয়।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
মিত্রদের এই অবস্থানে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলেছেন। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে বলেছেন, তারা যেন নিজেদের জ্বালানি সমস্যা নিজেরাই সমাধান করে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি ন্যাটো জোটের ঐক্যকে দুর্বল করে দিচ্ছে। দীর্ঘদিনের ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক এখন বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব
হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে পড়তে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ইরান যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মধ্যে যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে, তা ন্যাটোর ভবিষ্যৎ সম্পর্ক ও বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
















