বিশ্বজুড়ে দ্বিতীয় নাগরিকত্ব বা ‘বিকল্প পাসপোর্ট’ পাওয়ার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশের আইন পরিবর্তনের পর অনেকেই নিজেদের পারিবারিক শিকড় খুঁজে দ্বিতীয় পাসপোর্টের সুযোগ খুঁজছেন।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কানাডা বংশসূত্রে নাগরিকত্বের কিছু নিয়ম শিথিল করার পর বহু মানুষ তাদের পারিবারিক ইতিহাস খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। অনেকেই ভাবতে শুরু করেন, পূর্বপুরুষের মাধ্যমে কি নতুন নাগরিকত্ব পাওয়া সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আগ্রহের পেছনে মূল কারণ দুটি—বিশ্বজুড়ে সহজে চলাচলের সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা। বর্তমান সময়ে পাসপোর্ট শুধু পরিচয়ের দলিল নয়, বরং কোথায় থাকা, কাজ করা বা ভ্রমণ করা যাবে, তা নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা, মহামারির সময় সীমান্ত বন্ধ থাকা এবং ভিসা নীতির পরিবর্তন মানুষের চিন্তাভাবনায় বড় পরিবর্তন এনেছে। ফলে অনেকেই দ্বিতীয় নাগরিকত্বকে এক ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে দেখছেন।
ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর অনেক ব্রিটিশ নাগরিক আইরিশ বংশসূত্র খুঁজে নাগরিকত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, যাতে তারা ইউরোপে অবাধ চলাচলের সুযোগ বজায় রাখতে পারেন।
একইভাবে, ইতালিসহ বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে বংশসূত্রের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদন বেড়েছে। অনেকেই পারিবারিক ইতিহাস জানার আগ্রহ থেকে শুরু করলেও পরে বাস্তব সুবিধার কথা বিবেচনা করে আবেদন করেন।
তবে বাড়তি আবেদন সামলাতে কিছু দেশ নিয়ম কঠোর করতে শুরু করেছে। যেমন ইতালি সাম্প্রতিক সময়ে নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে প্রজন্মের সীমা নির্ধারণ করেছে।
অনেকের জন্য দ্বিতীয় পাসপোর্ট ভবিষ্যতের বিকল্প পরিকল্পনা হলেও কিছু অঞ্চলে এটি জরুরি প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক সংকটে থাকা দেশগুলোর নাগরিকরা অন্য দেশে যাওয়ার সুযোগ হিসেবে এটিকে দেখছেন।
অন্যদিকে ধনী ব্যক্তিদের জন্য বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। কিছু দেশ অর্থ বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্ব প্রদান করে, যা বৈশ্বিক বৈষম্যের একটি দিকও তুলে ধরে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বায়নের এই যুগে নাগরিকত্ব এখন কৌশলগত সম্পদে পরিণত হয়েছে। অনেকের কাছে পাসপোর্ট শুধু পরিচয়ের নয়, বরং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ও সুযোগের প্রতীক হয়ে উঠছে।
















