লা লিগার উত্তেজনাপূর্ণ এল ক্লাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদ ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে বার্সেলোনাকে। কিলিয়ান এমবাপে ও জুড বেলিংহ্যামের গোলই নির্ধারণ করেছে ভাগ্য, ভেঙে দিয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে চার ম্যাচের হারার ধারা। এই জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে পাঁচ পয়েন্টের লিড নিয়েছে লস ব্লাঙ্কোস।
রবিবার সান্তিয়াগো বার্নাবেউতে ম্যাচের শুরু থেকেই ছন্দে ছিল মাদ্রিদ। বেলিংহ্যামের দারুণ পাসে এমবাপে প্রথমে দলকে এগিয়ে দেন, যদিও কিছুক্ষণ পরই বার্সার ফেরমিন লোপেজ সমতা ফেরান। বিরতির আগেই বেলিংহ্যামের আরেকটি গোল মাদ্রিদকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়, যা শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে।
বার্সেলোনার পেদ্রি শেষ সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন, ম্যাচের উত্তেজনা তখন তুঙ্গে। এই জয়ে রিয়ালের পয়েন্ট দাঁড়ায় ২৭, আর দ্বিতীয় স্থানে থাকা বার্সেলোনার পয়েন্ট ২২। মৌসুমের প্রথম ১০ ম্যাচে নবম জয় তুলে নিয়েছে জাবি আলোনসোর দল, যারা এবার প্রমাণ করেছে বড় ম্যাচেও জয়ের মানসিকতা তাদের আছে।
অন্যদিকে, বার্সার কোচ হ্যানসি ফ্লিক নিষিদ্ধ থাকায় টাচলাইনে দায়িত্বে ছিলেন সহকারী মার্কুস সর্গ। ইনজুরিতে রাফিনহা, লেওয়ানদোভস্কি ও দানি অলমোসহ একাধিক তারকা অনুপস্থিত ছিলেন। কুঁচকির চোট থেকে পুরোপুরি না সেরে ওঠা লামিন ইয়ামালও ছিলেন একাদশে, যিনি ম্যাচের আগেই বিতর্ক তৈরি করেন রিয়ালকে “চোর” ও “অভিযোগকারী” আখ্যা দিয়ে। ফলে তার নাম ঘোষণার সময় বার্নাবেউ গর্জে ওঠে তীব্র বাঁশিতে।
প্রথমার্ধে বল দখলে এগিয়ে থাকলেও কার্যকর সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয় বার্সেলোনা। বিপরীতে, রিয়াল একের পর এক হুমকি তৈরি করে। ভিনিসিউস জুনিয়রকে ফাউল করার অভিযোগে প্রথমে পেনাল্টি পেলেও ভিএআর তাতে বাতিল আনে। কিছুক্ষণ পর এমবাপের দূরপাল্লার শট থেকেও গোল আসে, কিন্তু সামান্য অফসাইডের কারণে সেটিও গণ্য হয়নি।
অবশেষে বেলিংহ্যামের অসাধারণ থ্রু বল থেকে এমবাপে গোল করে লিড এনে দেন। এটি তার মৌসুমের একাদশ লিগ গোল। এরপর শেজনি দারুণ সেভে মাদ্রিদের আরও কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করেন, তবে আর্দা গুলারের ভুলে বল হারিয়ে রাশফোর্ডের পাস থেকে লোপেজ সমতা ফেরান। কিন্তু আনন্দ স্থায়ী হয়নি—বিরতির আগে বেলিংহ্যামের ট্যাপ-ইনে আবার এগিয়ে যায় রিয়াল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাদ্রিদ পেনাল্টি পেলেও শেজনি এমবাপের শট ঠেকিয়ে দেন। ইয়ামাল কিছুটা আক্রমণ করার চেষ্টা করলেও ছন্দ খুঁজে পাননি। আক্রমণে বিপজ্জনক রিয়াল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে।
সর্গ শেষ মুহূর্তে ডিফেন্ডার আরাউহোকে স্ট্রাইকার হিসেবে তুলে এনে সমতার চেষ্টা করলেও থিবো কুর্তোয়ার পোস্টে কোনো বিপদ আনতে পারেননি। অতিরিক্ত সময়ে পেদ্রির লাল কার্ড ও বেঞ্চে হাতাহাতিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ম্যাচের পরিবেশ।
রিয়ালের অরেলিয়েন চুয়ামেনি ম্যাচ শেষে বলেন, “এটা শুধু তিন পয়েন্ট নয়, আমাদের ছন্দ ফিরে পাওয়ার প্রমাণ। ইয়ামালের মন্তব্য হয়তো আমাদের আরও অনুপ্রাণিত করেছে, কিন্তু মাঠে আমরা জবাব দিয়েছি খেলার মাধ্যমে।”
















