বেইজিংয়ের সঙ্গে ফোনালাপে তেহরানের আশ্বাস, উত্তেজনা না বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান চীনের
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্যেও ইরানে অবস্থানরত চীনা নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেহরান সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে। সোমবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে টেলিফোনে আলাপের সময় তিনি এ আশ্বাস দেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আলোচনায় ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি ও চলমান সংঘাতের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। আরাঘচি বলেন, তেহরান নিজেদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে আত্মরক্ষা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, চলমান আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকস্মিক হামলা শুরু করে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, শান্তিচুক্তি এখন নাগালের মধ্যেই রয়েছে। ওমান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছিল।
আরাঘচি ওয়াং ইকে বলেন, তেহরানের সামনে আত্মরক্ষা ছাড়া অন্য কোনো পথ ছিল না। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও না বাড়াতে চীন সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, চীন ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় সমর্থন জানায়। ওয়াং ই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করে উত্তেজনা বৃদ্ধি ও সংঘাতের বিস্তার ঠেকানোর আহ্বান জানান।
চীন দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তেহরানের অবস্থান জোরদারে ভূমিকা রাখছে। ২০২১ সালে দুই দেশ ২৫ বছরের কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যেও চীন ইরানের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালে ইরান থেকে রপ্তানিকৃত তেলের ৮০ শতাংশের বেশি চীনে গেছে, যা সমুদ্রপথে চীনের মোট আমদানিকৃত তেলের প্রায় ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এর ফলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।
















